ক্লিনিক সিলগালার পর মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠার পর বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর আগে, তার পরিচালিত ব্যক্তিগত ক্লিনিকও সিলগালা করা হয়।
রোববার (২৬ জুলাই) স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগে পৌঁছায়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবনে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী মজুত এবং এমনকি হাসপাতালের সৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পান। এসব কর্মকাণ্ড সরকারি চিকিৎসাসেবার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যধারা চলমান থাকায় অভিযোগের গুরুত্ব, তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা এবং দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুর রহমান বলেন, সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন আমরা পেয়েছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে, গত শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আকস্মিকভাবে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার ওই পরিদর্শনে হাসপাতালের নানা অনিয়ম তার নজরে আসে। একটি পরিত্যক্ত ভবনের বিভিন্ন কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সিরিঞ্জসহ চিকিৎসা সামগ্রী মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। এমনকি হাসপাতালের শৌচাগারেও ওষুধ ও স্যালাইনের স্তূপ দেখতে পান তিনি। ঘটনাস্থল থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে খুলনা বিভাগীয় পরিচালককে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
এর পরদিন রোববার খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শফিউর রহমান এবং বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুর রহমান হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। একই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালসংলগ্ন ডা. কামাল হোসেন মুফতির পরিচালিত ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ সিলগালা করে স্বাস্থ্য বিভাগ।
.png)






