চালের মোকামে ট্রাকভর্তি চিনি, গলে পড়তেই হুড়োহুড়ি
-ec625c-720x405.webp)
কুষ্টিয়ায় চালের আড়তে চাউলের বদলে ট্রাকভর্তি চিনির রহস্যজনক উপস্থিতি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজে চিনি গলে গলে নিচে পড়তে থাকলে থালা-বাসনে সংগ্রহ করতে স্থানীয়দের হুড়োহুড়ি লেগে যায়। পরবর্তীতে পুলিশি অভিযানে এক ট্রাক চিনিসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে খাজানগরের রাজধানী এন্টারপ্রাইজ নামের একটি রাইস মিলের সামনে চিনি বোঝাই ট্রাকটি থামিয়ে বস্তা নামানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে বস্তা ভিজে চিনি গলে গলে ট্রাকে নিচে পড়তে শুরু করলে উৎসুক স্থানীয়রা বালতি ও পাতিল নিয়ে তা সংগ্রহে নেমে পড়েন। সাধারণত চালের মোকামে চালের বদলে অগণিত চিনির বস্তা দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। পরে তারা ট্রাকটি আটকে পুলিশে খবর দেয়।
খাজানগরের বাসিন্দরা জানান, চাউলের আড়তে হঠাৎ ট্রাকভর্তি চিনির চালান আসা অস্বাভাবিক। চিনিগুলো বৈধ না কি চোরাই পথে আসা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ট্রাকে থাকা চিনির বৈধ চালান বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ দেখাতে পারেনি।
প্রাথমিক তথ্যসূত্রে জানা যায়, পাবনার শামীম হোসেন নামে এক ব্যক্তি কুষ্টিয়ার মজমপুর এলাকার ইলিয়াস নামের এক ব্যক্তির কাছে এ চিনির চালান বিক্রি করেছিলেন। চালানের স্বপক্ষে বৈধ কাগজ ছিল কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্রয়সূত্রে ইলিয়াস দাবি করেন, তিনি এখনও কোনো চালান পাননি তবে চিনিগুলো একটি নির্দিষ্ট গুদামে নামানো হচ্ছিল।
অপরদিকে রাজধানী এন্টারপ্রাইজের মালিক মুস্তাফিজুর রহমান বাবু এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে জানান, চিনিগুলো তার মিলের পাশের কামাল নামের এক ব্যক্তির গুদামে নামানোর কথা ছিল।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, সকালে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চিনি ভর্তি ট্রাকসহ চারজনকে থানা হেফাজতে নেয়। খাজানগরে চালের মোকামে রহস্যজনকভাবে এমন আরও দুই ট্রাক চিনি প্রবেশের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। চোরাই চিনি বা অবৈধ চালান কি না তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



