উত্তপ্ত ঝিনাইদহে ৩ বাসে আগুন, সড়ক অবরোধ

একটি পাম্পে তেল কিনতে যাওয়া নীরব হোসেন নামে এক যুবককে বাগবিতণ্ডার জেরে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ।
শনিবার (৭ মার্চ) রাতে নীরব হোসেনের মৃত্যু ঘিরে তিনটি বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। এ ছাড়া শহরের আরাপপুরে একটি তেল পাম্প ভাঙচুর করা হয়।
এসব ঘটনার জেরে রোববার (৮ মার্চ) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনের সড়ক অবরোধ করেছেন বাস শ্রমিকরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনটি পোড়া বাস সড়কে নিয়ে অবরোধ শুরু করেন তারা। এতে বন্ধ হয়ে যায় ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের যান চলাচল। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে যায়, শনিবার রাতে মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে তাজ ফিলিং স্টেশনে যান নিরব। তখন পাম্পের কর্মচারীরা তাকে তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার পাম্পে ফিরে এসে দেখেন অন্য এক ব্যক্তিকে বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কর্মচারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে মারধর করলে তিনি আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর র্যাব অভিযান চালিয়ে পাম্পের তিন কর্মচারীকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন, সদর উপজেলার বারোইখালি গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নাসিম, আড়ুয়াকান্দি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে রমিজুল এবং কাস্টসাগরা গ্রামের সোফিয়ার রহমানের ছেলে আবু দাউদ।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজ হোসেন বলেন, রাতে বাসে যারা আগুন দিয়েছে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। শ্রমিকদের আশ্বাস নেওয়ার পর তারা দুই ঘণ্টা পর রাস্তা ছেড়ে দিয়েছে।