কুমিল্লায় সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও নেই উচ্ছেদ

কুমিল্লা মহানগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঙ্গিনী এলাকায় সরকারি রাস্তা দখল ও অবৈধ স্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগ চললেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। কুমিল্লা-কোটবাড়ি সড়ক থেকে চাঙ্গিনী বাজার জামে মসজিদের উত্তর পাশ ঘেঁষে পশ্চিমমুখী সড়কটি দখল ও বাধার কারণে সংকুচিত হয়ে আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সিএস ও বিএস নকশা অনুযায়ী সাবেক দাগ ৯৪ এবং হাল দাগ ২১৫-এর অন্তর্ভুক্ত সরকারি রাস্তার বিভিন্ন অংশ দখল করে রেখেছেন স্থানীয় দুই ব্যক্তি ফারুক খন্দকার ও সরোয়ার জাহান বাদল।
অভিযোগ অনুযায়ী, কোথাও সীমানা প্রাচীর, কোথাও টিন ও বাঁশের বেড়া এবং কোথাও গাছপালা রোপণ করে রাস্তার স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। কিছু অংশে রাস্তার বাঁক পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস ভূমি ও ওয়ারিশভুক্ত জমি দখল সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। চাঙ্গিনী মৌজার হাল ২৪২ দাগের সরকারি খাস ভূমি ও কবরস্থানের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ভয়ভীতি ও প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলে দাবি স্থানীয়দের। প্রতিবাদ করায় মারধর, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও উঠেছে।
২০১৮ সালে তৎকালীন মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাপজোখ করিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান বলে জানা যায়। এরপর রাস্তা দখলমুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তীতে মূল সরকারি রাস্তা উদ্ধার না করে প্রভাব খাটিয়ে পাশের ব্যক্তিগত জমির ওপর রাতের আঁধারে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়, ফলে অবৈধ দখল আরও স্থায়ী রূপ নেয়।
২০২৪ সালে পুনরায় অভিযোগ জানালে প্রশাসন আবারও মাপজোখ করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে অবৈধ দখলকারীদের সাত দিনের মধ্যে স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
বর্তমানে জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ মামলা করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, রাস্তা উদ্ধার করা গেলে প্রায় ২০ ফুট প্রশস্ত একটি সংযোগ সড়ক তৈরি করে রামপুরা সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুললে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ফসলি জমি পুনরায় আবাদযোগ্য করা সম্ভব হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে সরকারি রাস্তাটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ফারুক খন্দকার ও সরোয়ার জাহান বাদলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনেও তারা সাড়া দেননি।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজিব তালুকদার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
