মাদারীপুরে সরকারি বন্দোবস্ত জমি দখলের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় মারধর

মাদারীপুরের কালকিনিতে সরকারি বন্দোবস্ত পাওয়া জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাধা দেওয়ায় আব্দুল হামিদ আকন (৫০) ও তার স্ত্রী ঝুমকি বেগমকে (৪০) মারধর করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের আলীপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়মানুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় বন্দোবস্ত পাওয়া ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন আব্দুল হামিদ আকন ও তার পরিবার। তবে স্থানীয় কবির খান, ফারুক মালত, নজরুল মালত, আমির হোসেন মৃধা, হাবি মালত ও হারুন মালতসহ বেশ কয়েকজন জমিটি নিজেদের দাবি করে দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। ওই জমিটি নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
আব্দুল হামিদ আকনের জমির নামজারির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল আরেফীন সরেজমিনে জমিটি পরিদর্শন করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউএনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই কবির খান ও ফারুক মালতের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়।
এ সময় আব্দুল হামিদ ও তার স্ত্রী ঝুমকি বেগম বাধা দিলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় দুজনই রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল হামিদ আকন বলেন, সরকার সব আইনি প্রক্রিয়া মেনে আমাদের নামে জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ গায়ের জোরে আমাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে চাইছে। তারা আমাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই।
আহত ঝুমকি বেগম বলেন, সরকার আইনিভাবে আমাদের জমি বন্দোবস্ত করে দিয়েছে। সেই জমি জোরপূর্বক দখল করার জন্যই তারা আমাদের বেধড়ক মারধর করেছে। আমরা হামলাকারীদের শাস্তি চাই।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কবির খানের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিদায়ী কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল আরেফীন বলেন, ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। নামজারির জন্য হামিদ আকন আবেদন করার পর আমি সরেজমিনে দেখতে গিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবারই আমার শেষ কর্মদিবস ছিল। বদলিজনিত কারণে চলে আসার পর সেখানে বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠাই। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা বা অভিযোগ করেছেন কিনা, তা আমার জানা নেই।


