logo

ঢাকার ট্যানারিতে বগুড়ার ব্যবসায়ীদের ২০ কোটির বেশি বকেয়া

ঢাকার ট্যানারিতে বগুড়ার ব্যবসায়ীদের ২০ কোটির বেশি বকেয়া
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীদের ২০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া পড়ে আছে। এতে অর্থসংকটে পড়ে এবারও কোরবানির ঈদে চামড়া সংগ্রহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা, বকেয়া টাকা আদায় না হলে সীমিত পুঁজি নিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ চামড়া কেনা সম্ভব হবে না। এর মধ্যে লবণের দাম বাড়ায় চামড়া সংরক্ষণের খরচও বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়ায় প্রায় ২০০ চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন। ঈদুল আজহা সামনে এলে মৌসুমি ব্যবসায়ী যুক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা আরও বাড়ে। জেলার মোট চামড়ার প্রায় ৬০ শতাংশ সংগ্রহ হয় কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে। তবে কয়েক বছর ধরে চামড়ার বাজারে অস্থিরতা ও কম দামের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তাদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকেরা নির্ধারিত দামে চামড়া কিনলেও অর্থ পরিশোধ করেন ধাপে ধাপে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুঁজি দীর্ঘদিন আটকে থাকে। এতে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

চামড়া ব্যবসায়ী জুয়েল হোসেন বলেন, একসময় ঈদ এলেই গোডাউন এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য থাকত। এখন সেই পরিবেশ নেই। হাতে টাকা নেই। অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। প্রায় ১২ বছর ধরে আমার ৬০ লাখ টাকা পাওনা। বহুবার যোগাযোগ করেও টাকা পাইনি।

বগুড়ার চকসূত্রাপুর এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রতিবছর ঈদে চামড়া কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেন তারা। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। এ বছর আবার লবণের দাম কেজিতে প্রায় দুই টাকা বেড়েছে। এতে সংরক্ষণ ব্যয় আরও বাড়বে।

তাদের আশঙ্কা, ট্যানারি মালিকেরা সময়মতো বকেয়া পরিশোধ না করলে এবারও চামড়ার বাজারে ধস নামতে পারে।

এদিকে সরকার ইতিমধ্যে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে। ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বগুড়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি জাহেদুর রহমান মুক্তা বলেন, ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারি মালিকের কাছে বগুড়ার ব্যবসায়ীদের ২০ কোটির বেশি টাকা বকেয়া রয়েছে। বছরের পর বছর এ টাকা আটকে আছে। বকেয়া আদায়ে এবার জেলা প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি।

তিনি বলেন, ঢাকার টাকা পেলে ব্যবসা কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। না হলে নিজেদের সীমিত পুঁজিই ভরসা।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা তার কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করেছেন। মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।