সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় চারজনের হাম শনাক্ত

সিলেটে নতুন করে চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা) এই চার রোগীকে শনাক্ত করা হয়।
বুধবার (১ এপ্রিল) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ২১ জন গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, একজন বেসরকারি রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে, একজন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে, দুজন জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, দুজন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পাঁচজন দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, একজন বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, তিনজন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৪৩ জনের মধ্যে ২৬ জন শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল আইসোলেশনে, একজন রাগীব রাবেয়া হাসপাতাল, একজন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে, দুজন জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, দুইজন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, একজন বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৯ জন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল এবং একজন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় চার জনের হাম পজিটিভ ধরা পড়ে। এই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গত তিন মাসে ১৮ জনের হাম পজিটিভ নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে হবিগঞ্জের ৩ জন, মৌলভীবাজারের ৬ জন, সুনামগঞ্জে ৩ জন এবং সিলেট জেলায় ৬ জন।
সিলেটে সম্প্রতি হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ার কারণে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ডকে হাম চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ২৬ মার্চ থেকে আমাদের এই হাসপাতালে আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে আসা রোগীদের এখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করে ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
শিশু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম বলেন, সিলেটে হাম রোগের নমুনা পরীক্ষা হয় না এবং আগে কখনও হয়নি। ঢাকার মহাখালীর ল্যাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা পাঠানো হয়। আমরা নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার পাঠানোর পাঁচ থেকে সাত দিন পর ফলাফল জানা যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের হাম পজিটিভ রিপোর্টে পাওয়া গেছে।