logo

শরীয়তপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, ২০ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট

শরীয়তপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, ২০ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফারণ ঘটানো হয়। এতে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) ভোররাতে দুপক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নড়িয়ার রাজনগর জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে পূর্বের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে রোববার বিকেলে বিএনপির পক্ষে কাজ করা হাফিজ ভুঁইয়ার ছেলে সাব্বিরকে মারধরের অভিযোগ ওঠে জামায়াত-সমর্থক ছোরপান কাজীর ছেলে সোহেল কাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনার জেরে সোমবার ভোররাতে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে। এতে দুপক্ষের ১৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

ভুক্তভোগীরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পক্ষ নেওয়ার জেরে তাদের টার্গেট করা হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ সারিকা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী-সন্তান প্রবাসে থাকে। আমরা বিএনপির পক্ষে কাজ করায় আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আরেক ভুক্তভোগী চন্দ্রবান বেগম বলেন, ‘আমি নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট ছিলাম। এ কারণে হঠাৎ করেই আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য হাসিনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমার স্বামী ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না। উল্টো তারাই পূর্বে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল।’

অন্যদিকে সোহেল কাজীর পরিবারের সদস্য গৃহবধূ শারমিন বেগম দাবি করেন, হাফিজ ভুঁইয়ার লোকজনই এলাকায় আগে থেকে অরাজকতা সৃষ্টি করে আসছে। আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, নির্বাচন পরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।