কক্সবাজারে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হত্যায় গ্রেপ্তার ১, তিন কারণ ঘিরে চলছে তদন্ত

কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলম হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য তিনটি কারণ সামনে রেখে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসপি।
গ্রেপ্তার মো. তারেক রামু উপজেলার খোন্দকার পাড়ার বাসিন্দা। তাকে চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ফুলছড়ি এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি সাজেদুর রহমান বলেন, ‘তারেকের স্বীকারোক্তি মতে ঘটনায় আরও দুজন জড়িত। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ তিনটি বিষয় ঘিরে তদন্ত করছে। এর মধ্যে ছিনতাই, পূর্বশত্রুতার জের ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়টি সামনে এসেছে।’
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কবিতা চত্বর পয়েন্টে ছুরিকাঘাতে নিহত হন খোরশেদ আলম। তিনি কক্সবাজার শহরের পূর্ব পাহাড়তলীর উসুলোর ঘোনা এলাকার শাহ আলমের ছেলে। খোরশেদ জুলাই আন্দোলনের প্রথম সারির নেতৃত্ব দেওয়াদের একজন। একইসঙ্গে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি সাজেদুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে জুলাই আন্দোনের নারী সমন্বয়ক তারিন সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে খোরশেদ আলম ঘুরতে কবিতা চত্বর গেলে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, পেটে ও পায়ে ছুরিকাঘাতে খোরশেদের মৃত্যু হয়।
পুলিশ সুপার জানান, তারিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারেককে শনাক্ত করে কৌশলে চকরিয়ার খুটাখালী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শারীরিক সামঞ্জস্যতা, গলার কণ্ঠস্বর এবং কথোপকথন মিলিয়ে নিশ্চিত হয়েছি গ্রেপ্তার তারেকই মূল ঘাতক। তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় তারিন আপাতত জড়িত বলে তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। খোরশেদ আলমের ময়নাতদন্ত শেষে আসরের নামাজের পর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। অইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।