সাজছে বগুড়া, বাড়ছে আশা—প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস

উত্তরের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া যেন এই কদিনে বদলে গেছে। শহরের চেনা চিত্রের সঙ্গে মিশেছে এক ধরনের উৎসবের উচ্ছ্বাস। বৈশাখের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে উন্নয়ন, অবকাঠামো আর সম্ভাবনার গল্প। দীর্ঘ সময় পর বড় ধরনের সরকারি সফর ঘিরে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা, কৌতূহল আর প্রস্তুতির ব্যস্ততা।
আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ এখন এই প্রস্তুতির কেন্দ্রবিন্দু। বিশাল জনসভাকে সামনে রেখে সেখানে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিকদের ব্যস্ততা থামছে না। মাঠের চারপাশে টানানো হচ্ছে ব্যানার, সাজানো হচ্ছে প্রবেশপথ। শুধু এই মাঠ নয়, শহরের প্রধান সড়কগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা যায়, ভাঙাচোরা সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে। রোড ডিভাইডারগুলোতে নতুন রঙের প্রলেপ, ছাঁটা হয়েছে গাছপালা। পৌর ভবনকে সাজানো হচ্ছে নতুন করে, যেন একটি প্রশাসনিক পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে। সার্কিট হাউসেও চলছে ধোয়া-মোছা আর রঙের কাজ। বিভিন্ন মোড়ে তোরণ, ব্যানার আর আলোকসজ্জায় শহর পেয়েছে এক বর্ণিল রূপ। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে একটি বড় দিন। আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়ায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনব্যাপী সফরে তিনি সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচনসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন এবং বিকেলে এই আলতাফুন্নেছা মাঠেই জনসভায় ভাষণ দেবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ৬টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এরপর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন এবং ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। বেলা সাড়ে ১১টায় পৌরভবনে গিয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে নতুন এই নগর প্রশাসনের। এরপর সফর যাবে গাবতলীর দিকে। বাগবাড়ীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন, শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং নশিপুরে খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি রয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শন। বিকেলে শহরে ফিরে জনসভা, তারপর আরও কয়েকটি স্থাপনার উদ্বোধন শেষে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি।
তবে এই সফর শুধু একটি কর্মসূচির তালিকা নয়। বগুড়ার মানুষের কাছে এটি অনেক বড় কিছুর প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশন ঘোষণা, একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থবির হয়ে থাকা বিমানবন্দর চালুর দাবি রয়েছে এখানে। তাই এই সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেকটাই উঁচুতে।
দিনের শেষে বগুড়ার চিত্রটা তাই শুধু সাজসজ্জা বা কর্মব্যস্ততায় সীমাবদ্ধ নয়। এর ভেতরে আছে অপেক্ষা অনেক দিনের, অনেক কিছুর। কেউ দেখছেন উন্নয়নের সম্ভাবনা, কেউ খুঁজছেন বদলের ইঙ্গিত। এই সফর সেই প্রত্যাশার কতটা পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিমানবন্দর চালু হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, শিল্পখাতেও গতি আসবে। শিক্ষার্থীদের আশা, বিশ্ববিদ্যালয় হলে আর বাইরে যেতে হবে না। কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। শহরের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামীণ হাট সব জায়গাতেই এখন আলোচনার বিষয় একটাই, বগুড়ার ভবিষ্যৎ।
দীর্ঘদিনের অবহেলার কথা স্থানীয়দের কথায় বারবার উঠে আসে। অনেকেই মনে করেন, এই সফর সেই স্থবিরতা ভাঙার সুযোগ এনে দিতে পারে। সিটি করপোরেশন কার্যক্রম চালু হলে নাগরিক সেবায় পরিবর্তন আসবে, পরিকল্পিত নগরায়ণের পথ খুলবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিষয়ে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এশিয়া পোস্টকে বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।