ফেনীতে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু, ১৯ দিনে আক্রান্ত ৭১

ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। সংক্রমণের তীব্রতায় দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১৯ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি আগস্টের প্রথম ১৯ দিনেই জেলায় নতুন করে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
এর আগে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পুরো সাত মাসে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০১। অর্থাৎ বিগত সাত মাসের মোট রোগীর প্রায় ৭০ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে কেবল আগস্টের এই ১৯ দিনে। সব মিলিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭২-এ। বছরের প্রথম দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জুলাই ও আগস্টে এসে তা আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
তথ্যমতে, গত বছর (২০২৫) ফেনীতে সর্বমোট ডেঙ্গু রোগী ছিল ২০১ জন। অথচ চলতি বছরের আগস্টের মধ্যভাগেই সেই সংখ্যা ১৭২ ছুঁয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে ২৫ ও আগস্টে ৪৯ জন শনাক্ত হলেও এ বছর জুলাইয়ে তা বেড়ে হয় ৭২ এবং আগস্টের প্রথম ১৯ দিনেই আক্রান্ত ৭১ জন। এ বছর এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া ১৪৬ জনের মধ্যে ১৩৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ফেনী সদর হাসপাতালে ৫ এবং দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন রোগী ভর্তি আছেন। তবে জেলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি।
সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, রোগ নির্ণয়ে কিটের কোনো সংকট নেই। বর্তমানে জেলাজুড়ে ১ হাজার ৭৫৮টি কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ১ হাজার ২৭৮, ছাগলনাইয়ায় ১৬৩, ফুলগাজীতে ১৫২, পরশুরামে ১১৪, সোনাগাজীতে ২৭ এবং দাগনভূঞায় ২৪টি কিট রয়েছে।
ফেনী জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম সোহরাব আল হোসেন জানান, সম্প্রতি এডিস মশার বংশবৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রোগী বাড়লেও চিকিৎসা সেবা ও কিটের কোনো ঘাটতি নেই।
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ফুলের টব, টায়ার বা পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানি ৩ দিনের বেশি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার এবং জ্বর বা লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।



