পিরোজপুর/এক বছর ধরে তালাবদ্ধ ১০ একরের হর্টিকালচার সেন্টার

উন্নত জাতের বীজ, চারা ও কলম উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে এক হর্টিকালচার সেন্টার। তবে কোটি টাকার সরকারি অবকাঠামো দৃশ্যমান হলেও জনবল সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে এটি। ফলে সেন্টারটির কোনো সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের প্রত্যাশা ছিল, এ সেন্টারের মাধ্যমে তারা উন্নত জাতের ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সবজির চারা, কলম ও বীজ সহজে পাবেন। পাশাপাশি মিলবে আধুনিক কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা। কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা এর কোনো সুফলই পাচ্ছেন না।
বর্তমানে সেন্টারটির জমি ও অবকাঠামো অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানটি কোথাও কোথাও ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষকদের মাঝে সুলভ মূল্যে উন্নত জাতের ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সবজির চারা, কলম ও বীজ সরবরাহ এবং উদ্যানপালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে ৭৩টি হর্টিকালচার সেন্টার নির্মাণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় নাজিরপুরে প্রায় ১০ একর জমির ওপর এই হর্টিকালচার সেন্টারটি গড়ে তোলা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সেন্টারটির অবকাঠামোর কাজ শুরু হয়। শেষ হয় গত বছরের জুনে। পরে প্রকল্পের পক্ষ থেকে এটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণে মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রকল্পের আয়-ব্যয়েরও কোনো হিসাব নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেন্টারটি বন্ধ থাকায় সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি এখন তাদের কোনো কাজেই আসছে না। অবিলম্বে এটি চালু করে কৃষকদের জন্য কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, হর্টিকালচার সেন্টার করার জন্য আমাদের কাছ থেকে জমি নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তখন বলেছিল, এখানে স্থানীয়দের চাকরির সুযোগ হবে। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। একজন লোক এখানে দেখাশোনা করেন, তাকেও ঠিকমতো বেতন দেওয়া হয় না। আমরা চাই, হর্টিকালচার সেন্টারটি দ্রুত চালু করা হোক।
আরেক কৃষক রুহুল আমিন বলেন, ভবন নির্মাণ করে ফেলে রাখায় সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে। এখানে কোনো কার্যক্রম না থাকায় প্রান্তিক কৃষকরা কোনো সুফল পাচ্ছেন না। সরকারের যে উদ্দেশ্যে এটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটিও বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বর্তমানে জায়গাটি অনেকটা ভুতুড়ে অবস্থায় পড়ে আছে। এটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।
স্থানীয় নারী কৃষক রহিমা বেগম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি হওয়ার আগে আমরা এখানে কৃষিকাজ করতাম। ভেবেছিলাম হর্টিকালচার সেন্টার হলে এখানেও কাজ করার সুযোগ পাব। কিন্তু প্রায় তিন বছর ধরে এখানে তেমন কোনো কাজই হচ্ছে না।
পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, উন্নত মানের চারা ও কলম উৎপাদন করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের জন্যই হর্টিকালচার সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বর্তমানে কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত করা হলে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তখন এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে উন্নত মানের বীজ, চারা ও কলম বিতরণ করা যাবে।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, সরকারের বিপুল অর্থে নির্মিত হর্টিকালচার সেন্টারটি আর তালাবদ্ধ না রেখে যেন দ্রুত চালু করা হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ, চারা ও কলম সরবরাহের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা যাবে।


