গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণের আসল কারণ জানা গেল

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ তুলেছে পরিবার। তবে এটি প্রেমসংক্রান্ত ঘটনা বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও পুলিশ। ইতোমধ্যে মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও যুবক কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা করায় ছেলের মাসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুরের মাওনা এলাকার ইমাম হাদিউল ইসলামের মেয়ে স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ইমামের মেয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী মো. আবিদের (২১) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১৪ এপ্রিল তারা দুজন পালিয়ে যায়। এরপর ১৫ এপ্রিল কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করেন। পরে মেয়ের বাবা ও লোকজন তাদের খুঁজে বের করে নিয়ে আসেন এবং এলাকায় সালিশের ব্যবস্থা করেন। এরপরই মেয়ের বাবা মেয়েকে বাসায় নিয়ে যায় কিন্তু ছেলে তার বিবাহিত বউকে কেন রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে বন্ধুদের নিয়ে মেয়ের বাড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই ছেলে ও মেয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের মোবাইল ফোনও ঘটনার পর থেকে বন্ধ রয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও জানান, মেয়ে নাবালিকা কিন্তু তারা বিয়ে করেছেন এটাও সত্য। তাদের কোর্ট ম্যারেজের কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তারা একে অপরের প্রতিবেশী। তবে সমস্যা হচ্ছে মেয়ের বাবা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা। অপরদিকে ছেলে ছাত্রদলের রাজনীতি করেন। যার কারণে বিষয় এখন রাজনীতির দিকেও মোড় নিচ্ছে।
তবে ঘটনায় মেয়ের বাবা হাদিউল ইসলাম বাদ হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেছেন৷ এরপরই ছেলের মা, চাচি, চাচাসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মেয়ের বাবা হাদিউল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে নাবালিকা। তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়েছে। তারা ক্ষমতা দেখিয়ে জিম্মি করে নিয়ে গেছে। আমরা এর বিচার চাই, দ্রুত আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান করছি৷ তবে ছেলে আত্মগোপনে থাকায় এবং তার পরিবারের সদস্য আটক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, যে জানতে পেরেছি এটি প্রেমঘটিত ঘটনা। আইনের বিষয়টি তারা হয়তো বোঝে না। মেয়ে নাবালিকা হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে করেছে। মেয়ের বাবা বিষয়টি জটিল করছেন।
তারা প্রতিবেশী, প্রথম দিন ছেলেমেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে দুই পরিবার সমঝোতা করে নিয়ে এসেছিল। এসব বিষয় আমাদেরকে কিছুই না জানিয়ে মেয়ের বাবা মেয়েকে ঘরে আটকে রাখেন৷ পরে ছেলে তার বিয়ে করা বউ দাবি করে তালা ভেঙে নিয়ে যায়।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা মামলা নেই। ছেলের মা, চাচি চাচাসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছি৷ ছেলে ও মেয়ে দুজনই পালিয়ে গিয়ে মোবাইল বন্ধ করে রেখেছে। এখন এটা কেউ কেউ রাজনৈতিক রূপ দিতে চাচ্ছে। তবে আমাদের সংসদ সদস্য নির্দেশনা দিয়েছেন ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে।