আগামীর লড়াই দলীয় নয়, জুলুম-মজলুমের: হাসনাত আবদুল্লাহ

আগামী দিনের রাজনীতি প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের জন্য ভারত, ইংল্যান্ড বা আমেরিকায় যাওয়ার সুযোগ নেই। আগামী দিনের লড়াই কোনো দলীয় লড়াই নয়; এটি ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় এবং জুলুম-মজলুমের লড়াই। এই দুপক্ষের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। এনসিপি ভালো কাজ করলে সমর্থন দেবেন, আর ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্বর ও বড়বাজার এলাকায় আয়োজিত জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, দেশের মানুষ তারেক রহমানকে দেখে ভোট দেয়নি; তারা ভোট দিয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখে। অথচ বিএনপি নির্বাচনের আগে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও এখন দেখা যাচ্ছে, ‘সবার আগে ক্ষমতা, সবার আগে বিএনপি’। দেশের জনগণ এটি মেনে নেবে না।
চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবের সভাপতিত্বে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহত শহীদদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনালেও নিজেদের পছন্দের লোক বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মসজিদ কমিটিও দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে সেখানে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অতীতের নির্বাচনে ভোট ডাকাতি ও কারচুপির অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি নতুন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেখানে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণমুক্ত থাকবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ একটি কাঠামোর মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন হবে। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশে দলটির রাজনীতি করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, আলী আহসান জুনায়েদ ও সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক আহসান। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল পারভেজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার ছোটন, মো. আলী রুশদী মজনু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গার সাবেক আহ্বায়ক আসলাম অর্ক, চুয়াডাঙ্গার মুখ্য সংগঠক মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
.png)






