মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বাজেট দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় রেখে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয় বাজেটে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের ওপর করের চাপ কমানোর পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলে উন্নয়ন ব্যয়ে দেশীয় অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়বে এবং বিদেশি সহায়তা ও ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এটি আমাদের সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
বাজেটকে ‘দলীয় বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করার সমালোচনার জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারের বাজেটকে শুধুমাত্র দলীয় বাজেট হিসেবে চিহ্নিত করা অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত।
কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর সফর
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক-সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম তিনি কক্সবাজারে আসছেন। নির্বাচনের আগে তিনি আসতে পারেননি। তাই জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। এ অঞ্চলের মানুষ তাকে সরাসরি দেখবেন। তার বক্তব্য শুনবেন। এটিই আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।
কক্সবাজারবাসীর পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিগত বা স্থানীয় দাবি উত্থাপন করা হবে না উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তবে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা এবং কক্সবাজারে একটি ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এসব দাবি প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাতামুহুরী নামে নতুন উপজেলা সৃষ্টির প্রস্তাব জাতীয় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির (নিকার) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। সেখানে একটি থানা প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত পেকুয়া উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠা। সেই দাবি অনুমোদন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে মাতামুহুরী উপজেলা ও থানা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
সফরসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেখানে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তার কাছে তুলে ধরব। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
এ সময় চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



