logo
Advertisement

নওগাঁয় কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

এশিয়া পোস্ট নিউজ,নওগাঁ
নওগাঁয় কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার
আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তারকৃত কিশোর গ্যাং ‘ব্ল্যাকহোল’-এর দুই মূলহোতা সুলতান ও পারভেজকে নিয়ে পুলিশের অভিযানিক দল। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নওগাঁর মান্দায় কিশোর গ্যাং ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’-এর মূলহোতা সুলতান ও পারভেজকে দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Advertisement

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সমন্বিত বিশেষ অভিযানে বগুড়ার শেরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল সুলতান ও পারভেজ। স্থানীয় কিশোরদের জোরপূর্বক নিজেদের দলে যোগ দিতে বাধ্য করত তারা; এতে রাজি না হলে চালানো হতো নির্মম নির্যাতন।

এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে তুরুকবাড়িয়া এলাকায় সাফিআল জাবের নিরব নামে এক তরুণকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা গুলিবর্ষণ করে। খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে।

পরবর্তী সময়ে ২৬ আগস্ট রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে গ্যাংটির সদস্যরা পুনরায় গুলিবর্ষণ করে। এসব ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে মান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শাওনের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মান্দা থানা, রানীনগর থানা ও আত্রাই থানার সমন্বয়ে একটি চৌকস দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ডেটা অ্যানালাইসিস করে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত দুই সন্ত্রাসী ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে অন্য জেলার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রিমুখী নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবশেষে ৩১ আগস্ট রাতে বগুড়ার শেরপুর থানা এলাকার ‘ফুড ভিলেজ’ থেকে ঢাকাগামী ‘একতা পরিবহন’-এর একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নিজ ঘরে অস্ত্র লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে অভিযান পরিচালনা করে সুলতানের বসতবাড়ির চালের কার্নিশ থেকে কাগজ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়—১টি দেশীয় তৈরি পিস্তলাকৃতির ওয়ান শুটার গান, ১টি ধারালো ডেগার (বাটসহ ১৮ ইঞ্চি ও বাট ছাড়া ১২ ইঞ্চি লম্বা, উভয় পাশ ধারালো), ১টি খেলনা পিস্তল, ১টি সুইচগিয়ার ঈগল চাকু, ২টি পুরোনো চাকু, ১টি খুর চাকু, ৩টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৬,৮৫০ টাকা।

পুলিশের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানার বহুল আলোচিত ‘চৌকিদারের ছেলে হত্যা মামলা’, সাইবার সুরক্ষা আইন ও মারামারিসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। আলোচিত ওই হত্যা মামলায় তারা দুজনে আট মাস জেলহাজতেও ছিল। তারা নিয়মিত নিজেদের কাছে মানুষকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে সুইচগিয়ার ঈগল চাকু বহন করত।

চিহ্নিত এই দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় জেলা পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছে মান্দা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, নওগাঁ জেলায় যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি অপরাধ জেলা পুলিশ কঠোর হস্তে দমন করবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই জিরো টলারেন্স অভিযান অব্যাহত থাকবে।