Advertisement

মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত চা প্রক্রিয়াজাত, বাড়ছে উৎপাদন খরচ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত চা প্রক্রিয়াজাত, বাড়ছে উৎপাদন খরচ
একটি কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে চা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাবে মৌলভীবাজারে ব্যাহত হচ্ছে চা কারখানার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াজাতকরণ। দিনে গড়ে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে স্বাভাবিক সক্ষমতার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশে। জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে কয়েকগুণ।

Advertisement

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভরা মৌসুমে জেলার ৯২টি চা বাগানের কারখানায় স্বাভাবিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে চায়ের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। চায়ের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সময়ের গুরুত্ব থাকায় বিদ্যুতের সামান্য ব্যাঘাতও বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাঁচা চা পাতা দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানাধীন কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক দিপন কুমার সিংহ বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে চা উৎপাদন অনেকটা কমেছে। সার্বক্ষণিক উৎপাদন ধরে রাখতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে। সার্বিক উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণ। এভাবে তীব্র লোডশেডিং থাকলে চায়ের গুণগত মান অনেকটা নষ্ট হবে। ফলে চা শিল্পে ক্ষতি হবে।

কোম্পানির সিলেট অঞ্চলের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি মৌসুমে চা খাত বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হবে। ভরা মৌসুমে উৎপাদনের যে সুযোগ থাকে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হাতছাড়া হচ্ছে তার বড় একটি অংশ। চায়ের মান নষ্ট হলে চায়ের দামও কমে যাবে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, গত দুদিন লোডশেডিং তুলনামূলক কম ছিল। আগামী সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান জি এম শিবলী জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে চা প্রক্রিয়াজাতকরণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে অনেক চা বাগান নিজস্ব জেনারেটর থাকায় বাড়তি খরচ করেও চায়ের প্রক্রিয়াজাতকরণ স্বাভাবিক রাখছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) মৌলভীবাজারের পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইন্দ্রজিৎ দেবনাথ বলেন, আমরা আশা করছি লোডশেডিং সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে। আমরা ভালোভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে পারব।