logo
Advertisement

রাশিয়ায় বিস্ফোরণে নিখোঁজ আলাল মারা গেছেন, গ্রামে মাতম

এশিয়া পোস্ট নিউজ,মেহেরপুর
রাশিয়ায় বিস্ফোরণে নিখোঁজ আলাল মারা গেছেন, গ্রামে মাতম
। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাশিয়ার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিখোঁজ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আলাল হোসেন রাজু আর বেঁচে নেই—এমন খবর পেয়েছে তার পরিবার। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement

স্বজনেরা জানান, বিদেশে যাওয়ার সময় আলাল তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে দেশে রেখে যান। রাশিয়া যাওয়ার ১৫ দিন পর তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সেই সন্তানকে দেখতে আগামী মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল আলালের। এখন তিনি দেশে ফিরবেন ঠিকই, তবে জীবিত নয়—লাশ হয়ে।

গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি শ্রমিক জাকির হোসেন নিহত, সাতজন আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক জাকির হোসেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি শ্রমিক মো. আলাল হোসেন রাজু মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া মাঠপাড়া গ্রামের খেড়ু মন্ডলের ছেলে।

মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি চীনের সিনোপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীনে পরিচালিত হয়। বিস্ফোরণে কয়েকজনের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ আলাল হোসেনও এসব মরদেহের মধ্যে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছিল।

দূতাবাস সূত্র আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত সাত বাংলাদেশি শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমুর থেকে মস্কোর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। মস্কোয় নেওয়ার পর আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাস দেখভাল করবে।

তবে আলালের পরিবারের দাবি, তারা ঢাকায় গিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছেন, আলাল আর বেঁচে নেই।

আলালের ভাই জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা ঢাকায় গিয়ে দূতাবাসে যোগাযোগ করে জানতে পারি, আমার ভাই আর বেঁচে নাই। সেও এই দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে। এমনটি আমাদের জানিয়েছেন আলালের বস, এক চীনা নাগরিক।

তিনি বলেছেন, দুর্ঘটনায় আলালের মৃত্যু হয়েছে এবং তার মরদেহ সেনাবাহিনী নিয়ে গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

আলালের চাচাতো ভাই মহির উদ্দিন বলেন, আমার ভাই আজ থেকে ১৩ মাস আগে রাশিয়ার সিনোপেক্স ফোর গ্যাস ফিল্ডে কাজ করতে যায়। সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে—এমনটি তারা নিশ্চিত করেছেন। তবে সেখানকার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তার মরদেহ বাংলাদেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, রাজু বিদেশে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বিদেশে যাওয়ার ১৫ দিন পর দেশে তার একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সেই সন্তানটিকে দেখতে আগামী মাসে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। অথচ সে দেশে ঠিকই আসবে। তবে জীবিত নয়, মৃত হিসেবে আসবে।