আমির হোসেন আমুর বাড়িতে ভাঙচুর

ঝালকাঠি শহরে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর পরিত্যক্ত বাসভবনে আবারও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৬ মে) দুপুরে শহরের রোনালসে সড়কে অবস্থিত বাড়িটির প্রধান ফটক ড্রিল মেশিন দিয়ে কেটে সরিরে ফেলে ‘জুলাই ছাত্র আন্দোলনের কর্মী’ পরিচয় দেওয়া একদল শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে স্থানীয়রা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন এবং রাতে মাদকসেবীদের আনাগোনার অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বাড়িটির প্রধান ফটকে টিনের বেড়া দিয়ে সেটি ঘিরে রাখে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। বুধবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা প্রথমে টিনের বেড়া অপসারণ করেন। পরে ড্রিল কাটার মেশিন ব্যবহার করে প্রধান ফটকটি কেটে ফেলেন। এতে পুরো বাড়িটি উন্মুক্ত হয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. লিখন বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের আস্তানা উন্মুক্ত রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রয়োজনে এখানে ভাগাড় করা হবে, এমনকি কেউ চাইলে টয়লেটও নির্মাণ করতে পারেন।
ঝালকাঠি জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ইয়াসিন ফৈরদৌস ইফতি বলেন, এই বাড়িটি ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রতীক হিসেবে থাকবে। এখানে কোনো ধরনের সংস্কার কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন শাসনের পথে না যায়, সে জন্য এটি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রাখা হবে।
অন্যদিকে ঝালকাঠি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আল তৌফিক লিখন অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকেলেই বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িটিতে হামলা চালায়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরবর্তীতে ভবনটি পুড়ে যায় এবং তখন থেকেই এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যারা ভবনটি সংরক্ষণের চেষ্টা করবে, তাদের প্রতিহত করা হবে।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চব্বিশের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা আমির হোসেন আমুর ওই বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা চেষ্টা চালালেও একপর্যায়ে তিনতলা ভবনটি পুড়ে যায়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ওই বাড়ি থেকে কয়েকটি লাগেজ উদ্ধার করে। একটি লাগেজে অক্ষত অবস্থায় এক কোটি টাকা এবং অন্য লাগেজগুলো থেকে আংশিক পোড়া অবস্থায় ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ডলার, ইউরোসহ প্রায় এক কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ। এরপর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।