অবকাঠামো সংকটে ভোমরা বন্দর, পণ্য খালাসে ভোগান্তি

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে কাস্টমস হাউস ঘোষণা করা হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ বন্দরের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। অবকাঠামোগত ঘাটতি, প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। বন্দরে প্রবেশের পর পণ্যবাহী ট্রাক খালাস করতে কখনো এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। এতে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, কাস্টমস হাউস ঘোষণার ফলে নিষিদ্ধ পণ্য ছাড়া বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে পর্যাপ্ত স্ক্যানার, ওয়্যারহাউস, ওজনযন্ত্র ও আধুনিক ডিজিটাল সুবিধার অভাবে পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে।
ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, আগে ট্রাক বন্দরে প্রবেশের পর দ্রুত পণ্য খালাস করা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন কোনো কোনো ট্রাক এক থেকে দুই দিন আটকে থাকছে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দিনের মধ্যেই পণ্য খালাস ও সরবরাহ করা সম্ভব হলে ব্যবসায়ীরা এ ধরনের লোকসান থেকে রক্ষা পেতেন।
ব্যবসায়ী আমির হামজা বলেন, কাস্টমস হাউস ঘোষণার ফলে নিষিদ্ধ পণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্য আমদানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ব্যবসায়ীরা এর সুফল পাচ্ছেন না। এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি আরও বাড়বে।
এদিকে বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরাও কাজের সংকটে রয়েছেন। হ্যান্ডলিং সমিতির নেতা হযরত আলী বলেন, বন্দরের আশানুরূপ উন্নয়ন না হওয়ায় কাজের পরিমাণ কমেছে। এতে শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁদের।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ভোমরা স্থলবন্দরের পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করতে হবে। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয় বাড়বে।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু হাসান বলেন, কাস্টমস হাউস প্রতিষ্ঠার ফলে আমদানির সুযোগ বেড়েছে এবং রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথাযথভাবে করা গেলে ভোমরা দেশের অন্যতম রাজস্ব আদায়কারী স্থলবন্দরে পরিণত হতে পারে।
এ বিষয়ে ভোমরা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মিনহাজ উদ্দিন বলেন, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে ট্রাকের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে। তবে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছে।

