এমপি হলে বিদেশি বরাদ্দ এনে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন করব: জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, এমপি হতে পারলে শুধু রাষ্ট্রের বরাদ্দ নয়, বিদেশি বরাদ্দেও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন করব। আগামী দিনের দুর্নীতিমুক্ত ঠাকুরগাঁও দেখতে চাইলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও বড় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
জামায়াতের প্রার্থী বলেন, সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দ বলছেন, উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসন নাকি উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। বাস্তবে উন্নয়ন হয়নি। এখনো পৌরসভার অনেক রাস্তা কাঁচা রয়েছে। বর্ষাকালে হাঁটা যায় না। পৌরসভার রাস্তাঘাটই ঠিক করতে পারলেন না, আবার উন্নয়নের গান শোনান।
তিনি বলেন, আমি শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের দিকে তাকিয়ে থাকব না। আপনাদের এই ভাই জাতীয় পর্যায়েই নয়, দেশের বাইরেও অনেকের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। আমার বিশ্বাস, আমি এমপি হতে পারলে শুধু রাষ্ট্রের বরাদ্দ নয়, বিদেশি বরাদ্দেও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের কাজ করব।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দুই দিন আগে আপনাদের পূজা শেষ হয়েছে। এবারও আপনারা মন্দির পাহারা দিয়েছেন। আমি যদি নির্বাচিত হই, তাহলে মসজিদ যেমন পাহারা দিতে হয় না, ঠিক তেমনিভাবে আপনাদের মন্দিরও পাহারা দিতে হবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু নির্বাচনে জেতার পর তা দেয়নি। এখন আবার উপনির্বাচনেও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার গান শুরু করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর এখন সবার ওপরে বাংলাদেশ আছে, নাকি সবার ওপরে বিএনপি? সবার ওপরে দলের নেতাকর্মীরা। তারা চাঁদাবাজি শুরু করেছে।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। মনে হচ্ছে, ফ্যামিলি কার্ড তাদের দাদার রেখে যাওয়া পৈতৃক সম্পত্তি। তারা আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের নামেই দিতে চায়। মনে রাখবেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যে টাকা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তা ১৮ কোটি মানুষের ট্যাক্সের টাকা। তারা তেলের দাম বাড়িয়েছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছেন। এসবের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অতিরিক্ত যে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সুতরাং, এই টাকা ১৮ কোটি মানুষের, এটা আপনাদের দলীয় সম্পত্তি নয়।
তিনি বলেন, আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের দরকার নেই। আমাদের দরকার, কৃষকেরা যেন ঠিকমতো সার পান এবং ঠিকমতো কৃষিকাজ করতে পারেন। সারের সিন্ডিকেট যেন না থাকে। আমরা চাই, বিদ্যুতের অতিরিক্ত যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কমানো হোক। আমরা চাই, তেলের দাম কমানো হোক। আমরা চাই, বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমানো হোক। আমরা গ্যাস চাই, বিদ্যুৎ চাই। আর যদি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার দিতে না পারেন, তাহলে গদি ছেড়ে দেন। এই গদিতে থাকলে আপনাকে এসব দিতে হবে, আর তা না হলে আপনাদের গদি ছাড়তে হবে। দেবেন না, আবার গদিও ছাড়বেন না এভাবে আপনাদের ক্ষমতার সিংহাসনে থাকতে দেব না।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, আসছে ডিসেম্বর। এই ডিসেম্বরের মধ্যে যদি জনগণের ছয় দফা বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে ডিসেম্বরের পরে আপনাদের ভাগ্য জনগণ নির্ধারণ করবে। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁওয়ের শূন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন হবে জনগণের প্রতিবাদের ভাষা। আমরা সার পাইনি, গ্যাস পাচ্ছি না, বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। এর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ জানাতে ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সিল মারব।
ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের জনপ্রতিনিধিরা সব সময় প্রতারণা করেন। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রতারণা করছেন। আপনারা বলেছিলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ করবেন, মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলবেন। নির্বাচনের আগে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সাত মাস হয়ে গেল, আপনারা মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলতে পারেননি। বরং মাদকের প্রভাব একেবারে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দিতে পারবে একমাত্র দাঁড়িপাল্লা। আমরা বিজয়ী হলে ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করব।