logo
Advertisement

মেহেরপুরে এক হাটেই ৪৫০ কোটি টাকার গবাদিপশু বিক্রির আশা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজমেহেরপুর
মেহেরপুরে এক হাটেই ৪৫০ কোটি টাকার গবাদিপশু বিক্রির আশা
জমে উঠেছে মেহেরপুরের সর্ববৃহৎ পশুর হাট। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী বামন্দী-নিশিপুর পশুর হাট। শত বছরের পুরোনো এই হাটজুড়ে এখন হাজার হাজার পশু। ব্যস্ততা বেড়েছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের। মেহেরপুরের এই একটি হাট থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ঈদের আগেই চাঙা হয়ে উঠেছে মেহেরপুরের গবাদিপশু কেন্দ্রিক অর্থনীতি।

বাজারে পশুর সরবরাহ বেশি থাকলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন দাম বেশি, আবার খামারিদের অভিযোগ–খাদ্যের বাড়তি দামের কারণে খরচই উঠছে না।

কুমিল্লা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, বামন্দী বাজারে গরুর সরবরাহ ভালো। মেহেরপুরের গরুর পশম মসৃণ হওয়ায় বাইরের বাজারে চাহিদাও বেশি। তাই প্রতি বছর এখান থেকে গরু কিনে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি। তবে এবার গরুর দাম একটু বেশি, তাই টার্গেট মিস হওয়ার শঙ্কা আছে।

স্থানীয় খামারি মোশারফ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খড়, ভুষি ও গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। যে খরচ হয়েছে, ব্যাপারিরা তার অর্ধেক দাম বলছে। টার্গেট অনুযায়ী দাম না পেলে গরু বিক্রি করব না। ঢাকার পার্টি আসলে ঠিকই দাম পাব। কিন্তু দালালদের উৎপাত বেড়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যাপারিও সিন্ডিকেট করে গরু কিনছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ৯০ হাজার ২৩৪টি হলেও, উৎপাদন হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি ষাঁড়, ৪ হাজার ৮৪৪টি বলদ, ৮ হাজার ৫০৯টি গাভি, ৪৮২টি মহিষ, ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি ছাগল এবং ২ হাজার ৭২০টি ভেড়া।

ইজারাদাররা জানান, জেলার গবাদিপশু কেন্দ্রিক অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হলো বামন্দী পশুর হাট। এই হাটকে ঘিরেই জেলার বৃহৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। আশপাশের অন্তত ১০ জেলার খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত এখানে কেনাবেচার জন্য আসেন। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতিটি হাটে গড়ে ৫ হাজারের বেশি পশু বিক্রির আশা করা হচ্ছে।

গাংনী উপজেলার বামন্দী-নিশিপুর পশুর হাটে সপ্তাহে দুই দিন, শুক্রবার ও সোমবারে বসছে জমজমাট বেচাকেনা। ঈদ ঘনিয়ে আসায় এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে পশু কেনাবেচা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা ছুটে আসছেন গরু ও ছাগল কিনতে।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশি গরুর সরবরাহ এবার আগের বছরের তুলনায় বেশি। হাটে ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ছয় লাখ টাকার বেশি দামেরও গরু উঠছে। ছাগল বিক্রি হচ্ছে পাঁচ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

হাট ইজারাদার হারুন অর রশিদ বাচ্চু বলেন, জাল টাকা ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের সার্বক্ষণিক টহল রয়েছে। সরকারি নিয়মে খাজনা নিলে আরও বেশি পড়ত। তাই প্রতি হাজারে টাকা না নিয়ে প্রতি পশু হিসেবে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই সুবিধা পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু শুক্রবারের হাটেই সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার গরু বিক্রি হবে। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ছাগলও উঠবে। সব মিলিয়ে এই মাসে হাট থেকে প্রায় ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার পশু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। জাল টাকা, ছিনতাই কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।