মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুবকের মরদেহ নিয়ে রহস্য, দুই পক্ষই বলছে পরিকল্পিত হত্যা

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে নির্মাণাধীন ভবন থেকে মোহাম্মদ মনির (২১) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মনিরের মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজন ও বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, মনিরকে হত্যা করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, তাকে মারল কে?
নিহতের ভাই মোহাম্মদ মোস্তাক দাবি করে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা মনিরকে মারধর করে হত্যা করেছেন। অপরদিকে প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার দাবি, স্থানীয় একটি চক্র মনিরকে হত্যা করে এর দায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের টাউনশিপ এলাকার নির্মাণাধীন একটি স্কুল ভবনের নিচতলা থেকে মনিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মনিরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন হবে।
নিহত মনির মাতারবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজঘাট এলাকার আলী আজগরের ছেলে।
মহেশখালী থানার পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, গত শনিবার রাত ১২টার দিকে মনিরসহ তিনজন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দুইজন বেরিয়ে এলেও মনির আর ফেরেননি। এরপর স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এরপর সোমবার বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে মরদেহ পাওয়ার খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরকে শনাক্ত করেন।
মাতারবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মোজাহেরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, সোমবার দুপুরে নির্মাণাধীন স্কুল ভবনের নিচতলায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, লাশের পাশে ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ মোস্তাক অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। রড দিয়ে পেটানো হয়েছে। তার অণ্ডকোষসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। আমরা এই হত্যার ন্যায়বিচার চাই।
অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে আমরা মহেশখালী থানার পুলিশকে অবহিত করি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আমার মনে হচ্ছে, একটি চক্র তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এর দায় বিদ্যুৎ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ওপর চাপাতে চাইছে। চক্রটি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
ওই কর্মকর্তার দাবি, গত শনিবার একটি চক্র বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে শ্রমিকদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ও ছয়টি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এসময় হামলায় ১৫ জন আহত হন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যে ভবন থেকে মনিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ১০ দিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। ভবনটির আশপাশে ৪০০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার রয়েছে। যদি বৈদ্যুতিক শক হতো তাহলে তার শরীর পুড়ে যেতো। আশা করছি, পুলিশের তদন্তে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। ঘটনায় প্রকল্পের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
জানতে চাইলে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সুলতান এশিয়া পোস্টকে বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ বা এজাহার দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


