৫০২ ভরি স্বর্ণ ও সম্পদের উৎস জানালেন নিপুন রায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া নিপুন রায় চৌধুরীর হলফনামায় উল্লেখ করা ৫০২ ভরি স্বর্ণালংকারের তথ্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় সংস্কার কাজে অনুদান দিতে গিয়ে স্বর্ণের বিষয়ে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
নিপুন রায় বলেন, ঘোষিত স্বর্ণালংকার নতুন কোনো সম্পদ নয়। বিয়ের আগে ও পরে, পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে পরিবার, শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া এসব গয়নার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের আয়কর রিটার্নেও এই সম্পদের বিবরণ ছিল। বর্তমান বাজারদরে স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য ধাতুর মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি জানান, তার হলফনামায় একটি ফ্ল্যাট, দুটি গাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংক ঋণের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। একটি গাড়ির ঋণ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ টাকার কার লোন এবং ২০ লাখ টাকার ব্যক্তিগত ঋণের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
নিজের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পটভূমির প্রসঙ্গ টেনে নিপুন রায় বলেন, তারা স্বচ্ছ ও সততার রাজনীতি করতে চান এবং নিজের সম্পদের তথ্য গোপন না করে প্রকাশ করেছেন। তার বাবা সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে কখনো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। একই সঙ্গে শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়–এর রাজনৈতিক জীবন নিয়েও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।
মনোনয়ন পাওয়া নিপুন রায় চৌধুরী ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ। ১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায় রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করা নিপুন রায় পেশায় একজন আইনজীবী। রাজনৈতিক পরিবারে বিয়ে হওয়ায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে সক্রিয়। ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়।
হলফনামায় নিপুন রায় নিজের পেশা আইনজীবী উল্লেখ করেছেন। বছরে তার আয় ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া শেয়ার ও ব্যাংক আমানত থেকে বছরে আরও প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আয় করেন। তার স্বামী অমিতাভ রায়ের পেশা ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।