রাজশাহী-নাটোর দ্বন্দ্বের জেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জেও দূরপাল্লার বাস বন্ধ

রাজশাহী ও নাটোর জেলা বাস মালিক সমিতির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে গত মঙ্গলবার রাত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকেও ঢাকাসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ এই অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে যাদের জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীমুখী হওয়া প্রয়োজন ছিল, তারা পড়েছেন গভীর অনিশ্চয়তায়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকে শহরের কোনো কাউন্টার থেকেই ঢাকাগামী দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, মূলত রাজশাহী ও নাটোর জেলা বাস মালিক সমিতির মধ্যে যাত্রী ওঠানো-নামানো সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও দ্বন্দ্বের জেরে গত মঙ্গলবার থেকে এই ধর্মঘটের সূত্রপাত হয়। রাজশাহীতে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জেও।
সরেজমিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ ধর্মঘটের খবর শুনে কাউন্টারগুলোতে এসে মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বাসের বিকল্প হিসেবে অনেকেই ট্রেনের দিকে ঝুঁকছেন, কিন্তু সেখানেও টিকিটের জন্য হাহাকার দেখা গেছে। এই সুযোগে কিছু ছোট যানবাহন যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, মালিকদের ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক কোন্দলের দায় কেন সাধারণ মানুষকে নিতে হবে? তারা অবিলম্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয় এবং জনভোগান্তি লাঘব হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঢাকা বাস মাস্টার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফ হোসেন বলেন, ওই দুই জেলার দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার অন্তত ২০০ গাড়ির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। আজও বুধবার কোন গাড়ি ছেড়ে যায়নি।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর ইসলাম জানান, রাজশাহী ও নাটোর জেলা বাস মালিকদের মধ্যে চলা দ্বন্দ্বের প্রভাবেই মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এটি যেহেতু দুই জেলার অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সমস্যা, তাই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মালিকরা নিরাপত্তার খাতিরে গাড়ি বের করছেন না। তিনি আরও জানান যে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কোনো কার্যকর আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়নি, ফলে এই সংকট ঠিক কত দিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।