আশাশুনির বুড়িয়া মন্দিরের চমক ৩৫ হাজার মুক্তাখচিত ১৩ প্রতিমা

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে এবার শারদীয় দুর্গোৎসবে নতুন আকর্ষণ হিসেবে থাকছে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তাখচিত ১৩টি প্রতিমা। প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব প্রতিমার কাজ পৌঁছেছে শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের কাজ চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায়। আয়োজকদের আশা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই শতভাগ কাজ শেষ হবে।
প্রতিমার ভাস্কর প্রকাশ মণ্ডল জানান, দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় প্রদর্শিত বিভিন্ন মূর্তির নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবার মুক্তার কারুকার্যে সাজানো প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ জুলাই কাজ শুরু হয় এবং বর্তমানে প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অর্ধেন্দু মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল জানান, আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীর বোধনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
তারা বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রতিমা নির্মাণে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তার কারুকাজে সাজানো প্রতিমা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
পূজা উপলক্ষে অষ্টমীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নবমীতে ধর্মীয় যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়েছে। বিজয়া দশমীতে বুড়িয়া, বড়দল বাজার, মধ্যম বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, বিষ্ণুপুর, ফকরাবাদ পূর্বপাড়া, কইসিটিসহ আশপাশের প্রায় ১০টি মণ্ডপের প্রতিমা একত্র করে আড়ম্বরপূর্ণ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিসর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে মন্দির কমিটি জানায়, মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পূজা চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পাওয়ার আশা করছেন তারা।
ফকরাবাদ গ্রামের মেম্বার প্রার্থী ও সাংবাদিক এসএম শরিফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, বড়দল ইউনিয়নে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান রয়েছে। মুক্তাখচিত প্রতিমা এবার দুর্গোৎসবে বিশেষ আকর্ষণ যোগ করবে।
প্রসঙ্গত, এ বছর আশাশুনি উপজেলায় মোট ১০৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
