logo

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রচার জরুরি: মাসুদ সাঈদী

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রচার জরুরি: মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রচার অত্যন্ত জরুরি। ইতিহাস বিকৃতির যে কোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে তাদের আদর্শ ধারণ করাই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পিরোজপুর সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে মুক্তিযোদ্ধা, আহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাসুদ সাঈদী। 

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস আমাদের জাতির চিরন্তন অহংকার, আত্মমর্যাদা ও গৌরবের উজ্জ্বল প্রতীক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের সূর্যসন্তানরা জীবন বাজি রেখে যে আত্মত্যাগ, বীরত্ব ও অদম্য দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাদের রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস যুগ থেকে যুগান্তরে আমাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে যাবে। 

মাসুদ সাঈদী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের এই মহান ত্যাগ কেবল অতীতের কোনো স্মৃতিচারণ নয়, বরং তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। দেশপ্রেম, ন্যায়বোধ ও আত্মত্যাগের যে আদর্শ তারা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তা আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে এমপি মাসুদ সাঈদী অঙ্গীকার ব্যাক্ত করে বলেন, আজকে এই দিনে আমরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সামন রেখে অঙ্গীকার করতে চাই— ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের দেখানো পথ অনুসরণ করেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সর্বস্তরের জনগণের ক্ষমতায়নকে সুসংহত করব। রাষ্ট্র ও সমাজের সব ক্ষেত্রে সাম্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করব। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব। 

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ শহীদুল হক, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান মল্লিক বীর প্রতীক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জহিরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক মুনান, যুদ্ধকালীন ইয়ং অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেনসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা।