বরিশালে কমেছে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের দাম

বরিশালে কমেছে ইলিশের দাম। রমজানে সব কিছুর দাম বাড়লেও ব্যতিক্রম হয়েছে শুধু ইলিশে। রমজান শুরুর আগে যে দাম ছিল এখন ওজন ভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কমেছে ইলিশের দাম। পাশাপাশি কমেছে অন্যান্য মাছের দামও। কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমেছে অন্যান্য মাছের দামও।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল নগরীর ইলিশ মোকাম পোর্ট রোড বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারে অনেক ইলিশ মাছ রয়েছে। কিন্তু ক্রেতা কম। বাজারে বড় সাইজের কোন ইলিশ নেই। জাটকা সাইজের ইলিশ মাছ বেশি রয়েছে।
বাজারের আকতার মৎস্য আড়ত এর ব্যবসায়ী মাসুম মৃধা বলেন, বাজারে এক কেজি দুইশ গ্রাম সাইজের বড় ইলিশ নেই। এক কেজি দুইশ গ্রাম সাইজের ইলিশও কম রয়েছে। এ সাইজের মাছ প্রতিকেজি ৩৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। রমজানের আগে প্রতি কেজি ৩৮০০ টাকা দরে বিক্রি হতো। এক কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ৩২০০ থেকে কমে ৩০০০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এলসি সাইজের মাছ ২৫০০ টাকা, চারশো গ্রাম সাইজের মাছ একহাজার টাকা ও জাটকা সাড়ে তিনশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাসুম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বাজারে ইলিশ মাছ আসছে। বরিশাল পোর্ট রোড বাজার থেকে প্রচুর মাছ দেশের বিভিন্নস্থানে যায়। এ মাছ না গেলে আরও দাম কম হতো। বাজারে প্রচুর মাছ আসায় ও ক্রেতা কম থাকায় দাম কমে গেছে বলে দাবি তার।
এদিকে বাজারে বর্তমানে রুই কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা দরে। এছাড়া গলদা চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৬০০ টাকা , পোমা মাছ ৩৫০ টাকা, চাষের কৈ ২২০ টাকা , শিং ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, গ্লাস কাপ ২০০ টাকা, সিলভার কাপ ১৫০ টাকা, কোরাল ৭৫০ থেকে ১০০০ টাকা, নদীর পাঙ্গাশ ১১০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ টাকা।
মাছ বিক্রেতা মাঈনুল জানান, ইলিশ মাছের পাশাপাশি সব মাছেরই দাম কমেছে। তবে সরবরাহ বেশি তাই কমেছে। সরবরাহ কমলে মাছের দাম কমবে।
মেঘনা নদীর জেলে নাগর খান বলেন, আগে নদীতে জাল ফেললে ইলিশ মাছ কম উঠতো । কিন্তু এখন ইলিশ ও পোমা মাছ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে মাছ পেলে রোজা ভালো কাটবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশালের সহকারী পরিচালক সুমি রাণী মিত্র বলেন, মাছের দাম কমায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে অভিযোগ আসলে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং চলমান আছে।