logo

১১০০ কেজির ‘সম্রাটে’র দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, খাগড়াছড়ি
১১০০ কেজির ‘সম্রাটে’র দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা
ফ্রিজিয়ান জাতের বিশাল ষাঁড় ‘সম্রাট’। ছবি : এশিয়া পোস্ট

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন খামারে প্রস্তুত করা হচ্ছে কোরবানি গবাদিপশু। পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার শেঠ অ্যাগ্রো ফার্মস লিমিটেড এ বিশেষ যত্নে লালন পালন করা হয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের এই বিশাল ষাঁড় সম্রাট'কে। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘সম্রাট’ এর বর্তমান ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি অর্থাৎ এক টনেরও বেশি! আর তাই এবারের কোরবানির উদ্দেশ্যে গরুটির দাম হাঁকানো হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

বিশাল দানব আকৃতির ষাঁড় ‘সম্রাট’ কুচকুচে কালো বর্ণের, মাথা ও শরীরের নিচে সাদা ছাপ, সুঠাম গঠন আর দানবীয় আকৃতির কারণে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের জন্ম দিয়েছে।

খামারে সম্রাটের তত্ত্বাবধানে থাকা মো. রতন জানান, জন্মের পর থেকেই ‘সম্রাট’ কে আলাদা পরিচর্যায় বড় করা হয়েছে। আমরা সম্রাটকে কোনো প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য ঘাস, খইল, ভুসি, ভুট্টা, ভাত খাইয়ে গরুটিকে লালন করা হচ্ছে। প্রতিদিন সম্রাটের জন্য ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার মতো খাবার লাগে। সকাল-বিকেল নিয়মিত গোসল পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

খামারের কর্মচারী মো. ওয়ালি উল্লাহ বাবু জানান, আমরা নিয়মিত তিনজন স্টাফ সম্রাটের দেখভাল করে যাচ্ছি। গরুটিকে আমরা সন্তানের মতো পরম মমতায় বড় করা হয়েছে। ‘সম্রাট’ শুধু একটি প্রাণী নয়, আমাদের পরিবারের সদস্য এবং শেঠ অ্যাগ্রো ফার্মসের মূল আকর্ষণ।

পাশাপাশি শেঠ অ্যাগ্রো ফার্মস লিমিটেড এ বছর কোরবানির জন্য ৮৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তুতকৃত পশুর সর্বনিম্ন ওজন ৪০০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ওজন ১১০০ কেজি। প্রতিটি গরু লাখের ওপরে।

শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেড স্বত্বাধিকারী সোলেমান শেঠ জানান, খামারে বর্তমানে ফ্রিজিয়ান জাতের সম্রাট সবচেয়ে বড়। যার ওজন ১১০০ কেজি। দাম চাওয়া হয়েছে ১২ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি খামারে শাহীওয়াল, ব্রাহামা-শাহীওয়াল ক্রসসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। তবে সবার নজর কেড়েছে ‘সম্রাট’ এর। আমরা খামার থেকে গরু বিক্রি করি। তবে আমাদের মূলত কোরবানি প্রস্তুতকৃত পশু গুলো চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ীতে বিক্রি করা হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলী আজম জানান, পাহাড়ের গরুগুলো প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় মোটাতাজা করন করা হয়। মোটাতাজা করণে খামারিরা প্রকার ওষুধ ব্যবহার করেন না। তাই পাহাড়ের পশুর মাংস স্বাস্থ্যসম্মত। যার কারণে পাহাড়ের গরু সমতলে বেশ চাহিদা রয়েছে। চলতি বছরে খাগড়াছড়িতে ২৫৮৭টি খামারে ১৮ হাজার ১৬৮টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় চাহিদা রয়েছে ১৩ হাজার ১১০টি এতে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫০৫৮টি, যা ছাড়া যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে সমতল জেলাগুলোতে রপ্তানি করা সম্ভব।