সৈকতে আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু বেড়ে ৫

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজের এক দিন পর এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড় নামে আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সমুদ্রসৈকতের কলাতলী সংলগ্ন ভাঙ্গারমুখ এলাকা থেকে নাফিসুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় (২০) ঢাকার উত্তরা থানার আজিমপুর এলাকার নাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালেই মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি এলাকার সৈকত থেকে নিখোঁজ থাকা মোহাম্মদ হারুন (২০) নামে আরেক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হারুন চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার মোহাম্মদ কবির আহমদের ছেলে। তার আদি নিবাস নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার চাঁনপুর এলাকায়।
জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, বুধবার বিকেলে মেরিন ড্রাইভের পেঁচারদ্বীপ এলাকার মৎস্য জাদুঘর সংলগ্ন মেরিনা রিসোর্ট সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকরা নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই লাইফগার্ড, বিচ কর্মী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকালে হিমছড়ি সৈকতে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা মোহাম্মদ হারুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রাত ৮টার দিকে কলাতলী পয়েন্ট সংলগ্ন ভাঙ্গারমুখ এলাকায় জোয়ারের পানিতে একটি মরদেহ ভেসে আসতে দেখে স্থানীয়রা বিচ কর্মী ও পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে বিচ কর্মীদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
গত বুধবার বিকেলে পেঁচারদ্বীপের মেরিনা রিসোর্ট সৈকতে পর্যটকদের সাতজন ও পাঁচজনের পৃথক দুটি দল সাগরে গোসলে নামে। এ সময় ভাটার টানে স্রোতে ভেসে যেতে দেখে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা তিনজনকে মৃত এবং একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় উভয় দলের একজন করে মোট দুজন নিখোঁজ ছিলেন।
বুধবার উদ্ধার হওয়া তিন নিহত পর্যটক হলেন ঢাকার উত্তরার আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪) ও সাইবুল হক জিসান (২৩) এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মো. আকাশ।
নিহতদের স্বজনেরা জানান, সাইবুল হক জিসান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মোকাররম হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন।

