‘দীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে দীপেন দেওয়ানের অব্যাহতি নেওয়ার ঘটনায় পার্বত্যবাসী নানা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পদত্যাগ প্রত্যাহার করে স্বপদে বহালের দাবিতে চতুর্থদিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় রাঙামাটির সর্বস্তরের জনসাধারণ ব্যানারে শহরের তবলছড়ি বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিদ্ধি ভবন এলাকা ঘুরে পুনরায় তবলছড়ি বাজারে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীপেন দেওয়ানকে পরিকল্পিতভাবে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানান।
এ সময় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. সেলিম মিয়া বলেন, দীপেন দেওয়ান দীর্ঘ দিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে আসছেন। তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গত সোমবার অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা দীপেন দেওয়ান। একই দিন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দীপেন দেওয়ান। ২০০৫ সালে জেলা যুগ্ম জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি।
দীপেন দেওয়ান মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি মেনে নিতে পারেননি তার অনুসারীরা। তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ জানান। নিজের পদত্যাগের বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য না দিলেও বুধবার তিনি ফেসবুকে নিজের আইডিতে পোস্ট করে পার্বত্যবাসীকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানান। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন–বিএনপির রাজনীতি করেছেন এবং ভবিষ্যতে করে যাবেন। বিএনপি তার শেষ ঠিকানা।
