logo

প্রতিমা তৈরি শেষ, উৎসবের রঙে সাজছে কয়রার পূজামণ্ডপ

প্রতিমা তৈরি শেষ, উৎসবের রঙে সাজছে কয়রার পূজামণ্ডপ
খুলনার কয়রায় ৫৭ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি শেষ, এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মাটির কাঠামোয় লেগেছে রঙের ছোঁয়া, প্রতিমার চোখে ফুটে উঠছে প্রাণ। কোথাও চলছে শেষ তুলির টান, আবার কোথাও মণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত আয়োজকেরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উৎসবের আমেজে সরগরম হয়ে উঠছে খুলনার কয়রা। ইতিমধ্যে কয়রার ৫৭টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কয়রা সদরের ৬ নম্বর কয়রা সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, শ্রী শ্রী গোবিন্দ জিউ ঠাকুর মন্দির, ৬ নম্বর কয়রা পূর্বপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মঠবাড়ী খড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, দশহালিয়া দুর্গা মন্দির ও আমাদী বাজার দুর্গা মন্দিরসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কোথাও প্রতিমার চোখ-মুখে শেষ তুলির আঁচড়, কোথাও চলছে পোশাক ও অলংকার পরানোর কাজ। আবার কোনো কোনো মণ্ডপে চলছে প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার কাজ। সব মিলিয়ে পূজার আগমনী বার্তায় মুখর হয়ে উঠেছে কয়রা।

প্রতিমাশিল্পী নিশিকান্ত গাইন বলেন, ছোটবেলা থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর রং-তুলির কাজের মাধ্যমে প্রতিমা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। বিশেষ করে চোখ-মুখের অভিব্যক্তি ও অলংকারের কাজে অনেক সময় ও যত্ন লাগে। পূজা যত ঘনিয়ে আসে, তাদের ব্যস্ততাও তত বেড়ে যায়।

শুধু কারিগরেরাই নন, পূজামণ্ডপ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে আয়োজকদেরও। মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পূজার অন্যান্য প্রস্তুতি শেষ করতে দিন-রাত কাজ করছেন তারা।

কয়রা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার বৈরাগী বলেন, এবার কয়রা উপজেলায় ৫৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন মণ্ডপের সাজসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে। আশা করছেন, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারবেন।

প্রতিমার রং ও শেষ সময়ের সাজসজ্জার কাজ দেখতে মণ্ডপে আসছেন দর্শনার্থীরাও। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাদের আগ্রহ। উৎসবকে ঘিরে নতুন পোশাক, কেনাকাটা ও নানা প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

৬ নম্বর কয়রা সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অশোক মন্ডল বলেন, প্রতিবছর দুর্গাপূজার জন্য তারা অপেক্ষা করেন। এবারও প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে মণ্ডপ সাজানোর কাজ দেখে ভালো লাগছে। সবাই মিলে আনন্দ-উৎসব করবেন, এটাই তাদের প্রত্যাশা।

কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রাশেদুল আলম বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ-আল বাকী বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে সবাই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করতে পারে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার থাকবে।