ঈদ আনন্দের মতো ঘরে ফিরছে মানুষ

প্রতিবারই ঈদে আনন্দ-উৎসবে ঘরে ফিরে মানুষ। খুশির আমেজে ভরে উঠে গ্রাম, গ্রামের ঘর-বাড়ি, মাঠ-ঘাট আর হাটবাজার। এবার ঈদ ছাড়াই অন্যরকম আনন্দ নিয়ে ঘরে ফিরছে মানুষ। এ আনন্দ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে অংশগ্রহণ করার।
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রংপুরমুখী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখে বোঝা যাচ্ছে, এবারের ভোট হচ্ছে এক উৎসবমুখর আয়োজন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনে ঘরমুখী হাজারো মানুষ। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না থাকায় শত শত মানুষ বসে আছে ছাদে। কারও মুখে ধানের শীষের স্লোগান, কারও কণ্ঠে দাঁড়িপাল্লার স্লোগান। কয়েকজনের হাতে দাঁড়িপাল্লার ব্যানার দেখা গেছে। কেউ স্লোগান ধরেছেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, ইনসাফের পক্ষে হোক।’
রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী মহিউদ্দিন পাশা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করি। গত তিনবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পরিনি। তাই এবার ভোট দিতে রংপুরের পীরগাছা গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি।’
রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের আরেক যাত্রী কামাল আকন্দ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি। নির্বাচন নিয়ে এত আনন্দ কখনোই লাগেনি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা ঢাকার রাজপথে আন্দোলন করেছি। আমরা দেশকে আর ফ্যাসিস্টের হাতে দিতে চাই না। তাই ভোট দিতে গ্রামে এসেছি। ট্রেনে অনেক ভিড়, তাই ছাদেই আসলাম। আমি গাইবান্ধার বামনডাঙ্গা স্টেশনে নামব।’
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা এশিয়া পোস্টকে বলেন, জেলার ৭ উপজেলার ৫টি সংসদীয় আসনের মোট ভোটার ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। মোট সংসদ সদস্য প্রার্থী ৪০ জন। এর মধ্যে ৩২ জন দলীয় এবং আটজন স্বতন্ত্র। ১ হাজার ১০০ সেনা সদস্য, ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এ ছাড়াও আড়াই হাজার পুলিশ ও ১৪টি র্যাব টহল টিম থাকবে।
প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে দুজন পুলিশ সদস্য আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র তিনজন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন পুরুষ, চারজন নারী আনসার এবং তিনজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য থাকবে বলে জানান তিনি।