logo

৫ দিনের তদন্ত এক মাসেও শেষ হয়নি

৫ দিনের তদন্ত এক মাসেও শেষ হয়নি

শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে গাইড বাণিজ্য করে শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ঘটনা সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিস। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গঠন করা হয় কমিটি। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও তা দেয়নি তদন্ত কমিটি।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রতিনিধি বা এজেন্টরা শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গাইড বইয়ের বাজার তৈরি করেন। শিক্ষকদের একাংশ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে গাইড বই কিনতে বাধ্য করছেন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শিক্ষক সমিতির রূপালী ব্যাংকের ৮৪৭ নম্বর হিসাবে প্রায় ২৪ লাখ টাকা জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রূপালী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখায় সমিতির হিসাবে ২৪ লাখ টাকা লেনদেনের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে কালীগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। সমিতির সদস্য সচিব আহসান হাবীব এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে দাবি করেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫২টি এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদরের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই সমিতির অন্তর্ভুক্ত।

শিক্ষকরা গাইড প্রকাশনী থেকে আর্থিক সুবিধা পান কি না- বিষয়টির খোঁজ নিতে যোগাযোগ করা হয় পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের স্থানীয় বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন স্বর্ণকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের উপঢৌকন দেওয়ার বিষয়টি মূলত এজেন্ট ও কোম্পানির পক্ষ থেকেই করা হয়। বাজার বিস্তারের জন্য এটি একটি প্রচলিত পদ্ধতি; যা এখন অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর গাইড বই চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনা তদন্তে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান একটি কমিটি গঠন করেন। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিমকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এক মাস ৮ দিন পার হয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

জানতে চাইলে কমিটি প্রধান আব্দুল আলীম এশিয়া পোস্টকে বললে, শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। তা ছাড়া রমজান এবং ঈদের ছুটির কারণে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়েছে। এখন অফিসের কার্যক্রম চলছে। দু-এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, আর্থিক সুবিধা নিয়ে গাইড বই কিনতে বাধ্য করা এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।