logo
Advertisement

এক হাতে স্যালাইন, অন্য হাতে প্রেসক্রিপশন লিখছিলেন চিকিৎসক

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,ভোলা
এক হাতে স্যালাইন, অন্য হাতে প্রেসক্রিপশন লিখছিলেন চিকিৎসক
হাতে স্যালাইন পুশ করা অবস্থায় রোগীর সেবা দিচ্ছেন এক চিকিৎসক। শুক্রবার ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জরুরি বিভাগের সামনে রোগীদের ভিড়। ভেতরে ঢুঁ মারতে চোখ কুচকাতে হলো। চিকিৎসকের চেম্বারে রোগীদের যিনি সেবা দিচ্ছিলেন, তার এক হাতে তখন স্যালাইন পুশ করা ছিল। বাঁ হাতে স্যালাইন পুশ করা অবস্থায় ডান হাত দিয়ে লিখছিলেন প্রেসক্রিপশন। কাছে গিয়ে জানা গেল তিনি হাসপাতালটির চিকিৎসক। হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় অসুস্থ শরীর নিয়ে তাকে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকতে হচ্ছে।

Advertisement

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্ব) রাতে ছিল এমন চিত্র। জরুরি বিভাগে তখন দায়িত্ব পালন করছিলেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ইরফান মাহমুদ। তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ডা. ইরফানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এরপর জরুরি বিভাগের দায়িত্ব সামলাতে এগিয়ে আসেন ডা. নয়ন চন্দ্র রায়। মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথা নিয়ে ওষুধ সেবন করে তিনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে থাকেন।

পরদিন শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা. নয়ন চন্দ্র রায়। মাথা ব্যথায় অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা কিছুটা ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের ওপর। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় একজন চিকিৎসককে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের ওপর বাড়ছে শারীরিক ও মানসিক চাপ।

চিকিৎসক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত চিকিৎসক সংকট নিরসন করে ভোলা সদর হাসপাতালে স্বাভাবিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা।

এক রোগীর স্বজন আফজাল মাহমুদ জানান, ‎ভোলা একটি দ্বীপ জেলা হওয়ায় এখানকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি। বিশেষ করে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ওপর নির্ভর করেন। ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। তাই দ্রুত ডাক্তার পদয়ানের ব্যবস্থা করে সেবার পরিবেশ তৈরি করার দাবি জানান।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরাফাতুর রহমান জানান, চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ভোলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা। রোগীর চাপে হিমশিম খাওয়ার অবস্থা চিকিৎসকদের। বর্তমানে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ রোগী। শয্যা সংকটে হাসপাতালের মেঝেতে, বারান্দায় চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ৮৭ জন চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন ১৭ জন। চিকিৎসক সংকট নিয়ে রোগীর সেবা দিতে গিয়ে ডাক্তাররা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। চিকিৎসক সংকট নিরসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে পদায়ন করা ব্যক্তিরা যোগদান করলে তাদের দিয়ে কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে।

বিষয় :