স্ত্রীসহ দুদকের জালে রাজশাহীর এএসপি আব্দুস সালাম

স্ত্রীসহ দুদকের জালে আটকা পড়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস সালাম। আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তা গোপনের অভিযোগে এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাদী হয়ে মামলাটি করেন রাজশাহী দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস সালাম (৫৭) ও তার স্ত্রী শাহানা পারভীন (৪৮)। মীর্জা মো. আব্দুস সালাম বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভার আদমদিঘী থানার বাসিন্দা মীর্জা কাজেম উদ্দিন আহমেদের ছেলে। শাহানা পারভীন একজন গৃহিণী অর্থাৎ তিনি তার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে তারা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের রাজপাড়া বাহরামপুর এলাকায় বসবাস করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জনৈক ব্যক্তি মীর্জা মো. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করেন। সে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে মীর্জা মো. আব্দুস সালামের স্ত্রী শাহানা পারভীনকে আদেশ জারি করে ঢাকাস্থ দুদকের প্রধান কার্যালয়। পরে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট রাজশাহী দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর সম্পদের বিবরণী দাখিল করেন শাহানা পারভীন।
এরপর অনুসন্ধানে নামে দুদক। শাহানা পারভীন তার দাখিল করা বিবরণীতে ১৮ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর ও ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবরসহ মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে শাহানা পারভীনের নামে ৪৯ লাখ ২৪ হাজার মূল্যের স্থাবর ও ৪৫ লাখ ৯২ হাজার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক। হিসাব বলছে, শাহানা পারভীন তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মোট ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন, যা দুদক আইন ২০২৪-এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অপরদিকে আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত শাহানা পারভীনের মোট ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা বৈধ উৎসের আয়ের তথ্য পাওয়া যায়। এ সময় তার পারিবারিক ব্যয় পাওয়া যায় ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫০ টাকা। ফলে পারিবারিক ব্যয়সহ তার অর্জিত সম্পদের মূল্য পাওয়া যায় মোট ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা। সে হিসেবে শাহানা পরভীনের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতি সম্পদের মূল্য পাওয়া যায় ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকা, যা দুদক আইন ২০২৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মীর্জা মো. আব্দুস সালাম একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তার স্ত্রী শাহানা পারভীনের নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, শাহানা পারভীন তার দাখিলকৃত সম্পদের বিবরণীতে মোট ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য অসুদ্দেশ্যে গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করাসহ তিনি ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অপরাধ করেন। এ ছাড়াও মীর্জা মো. আব্দুস সালাম একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তার স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেন।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস সালাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটি মিথ্যা মামলা। আমাদের বৈধ্য ট্যাক্স দেওয়া আছে। এগুলো আমার স্ত্রীর পারিবারিক সম্পত্তি। আমাদের হয়রানি করতে এ মামলা দেওয়া হয়েছে।