সম্পত্তির লোভে ফাঁদ পেতে বাবাকে হত্যা

চট্টগ্রামে ষাটোর্ধ্ব মজিবুর রহমান খান দুই বছর ধরে নিখোঁজ থাকার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, দুই বছর আগেই মজিবুরকে তার সন্তান মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ফাঁদ পেতে অপহরণ করে হত্যা করেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে–পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং জমি বিক্রিতে বাধা দেওয়ার জেরে নিজের বাবাকে প্রেমিকা ও সহযোগীর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন বেলাল। হত্যার পর মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় বঙ্গোপসাগরের পাড়ে জঙ্গলে। যেটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম।
সোমবার (১৫ জুন) পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগরের পুলিশ সুপার এসএম রফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।
এর আগে শনি ও রোববার পৃথক অভিযানে বেলাল হোসেন ও তার সহযোগী আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পায়।
পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, মীর মজিবুর রহমান খান বাঁশখালী থানার পূর্ব চাম্বল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। বিয়ে করেছেন তিনটি। ২০২২ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যানসারে মারা যান। এরপর তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
গ্রেপ্তার বেলাল হোসেন হলেন মজিবুর রহমানের প্রথম স্ত্রীর সন্তান। তিনি বাবার ওপর ক্ষুব্ধ হন সম্পত্তি নিয়ে। তার বাবা কিছু জমি বিক্রি করে দ্বিতীয় স্ত্রীর কন্যা সালমা খানমকে টাকা দিয়েছিলেন। পরে আরও দুই কানি জমি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলেন মজিবুর রহমান। তখন আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন বেলাল হোসেন।
পিবিআইয়ের তদন্ত বলছে, ঘটনার আগে বেলাল তার এক পূর্বপরিচিত প্রেমিকা (তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা হয়নি) ও স্ত্রীর বড় বোনের স্বামী আব্দুল জলিলকে এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই তরুণী মজিবুর রহমানের সঙ্গে ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মজিবুরকে ২০২৪ সালের ৮ জুন চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট সংলগ্ন আনন্দ সাবান ফ্যাক্টরির কাছে একটি ভাড়া বাসায় ডেকে আনেন ওই তরুণী।
সেখানে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে মজিবুরকে অচেতন করা হয়। অচেতন অবস্থায় বেলাল ও জলিল মিলে মজিবুরকে একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে তুলে নেন। গাড়িতে করে নগরের হালিশহর থানাধীন আটলান্টিক সেন্টারের বিপরীতে সিডিএ আউটার লিংক রোড পর্যন্ত যান তারা। সেখানে গাড়িতেই বেলাল ও জলিল মিলে মজিবুরের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহটি রাস্তার পাশে জঙ্গলে ফেলে তারা পালিয়ে যান।
পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, মজিবুরের খোঁজ না পেয়ে তার কন্যা সালমা খানম কোতোয়ালি থানায় জিডি (জেনারেল ডায়েরি) করেন। পরে আদালতে অপহরণ মামলা করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
