logo
Advertisement

গুলি চালিয়ে বাংলাদেশিদের ৪ নৌকা নিয়ে গেছে বিএসএফ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
পাটগ্রাম, লালমনিরহাট
গুলি চালিয়ে বাংলাদেশিদের ৪ নৌকা নিয়ে গেছে বিএসএফ
ধরলা নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নৌকাগুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত ধরলা নদীর শূন্যরেখায় বাংলাদেশি পাথরশ্রমিকদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ সময় পাথর ও বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত চারটি নৌকা নিয়ে যায় তারা।

স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, বিনা উসকানিতে ধরলা নদীর বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে বিএসএফ গুলি বর্ষণ করে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে আন্তসীমান্ত নদী ধরলা। সীমান্তঘেঁষা এ নদীর বুড়িমারী অংশের শূন্যরেখায় প্রতিদিনের মতো স্থানীয় বেশ কিছু শ্রমজীবী মানুষ হস্তচালিত উপায়ে বালু ও পাথর তুলে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতের ৬২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পানিশালা ক্যাম্পের ২০ থেকে ২৫ জন জোয়ান নদীতীরে এসে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বিএসএফের দুই সদস্য অস্ত্র উঁচিয়ে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, বাংলাদেশি পাথরশ্রমিকরা ভারতের অভ্যন্তরে যাননি। বিএসএফ সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম করে ধরলা নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নৌকাগুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং চারটি নৌকা জোর করে পানিশালা ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একটি ভিডিওতেও বিএসএফ সদস্যদের নদীতে নেমে নৌকায় আঘাত করা ও তা নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

এ ঘটনার পরপরই বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) শ্রীরামপুর পঁয়ষট্টিবাড়ী ক্যাম্পের টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেয়। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পানিশালা ক্যাম্পের কমান্ড্যান্টকে জরুরি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানান বুড়িমারী বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বুড়িমারী ও চ্যাংড়াবান্ধা কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জিরো পয়েন্টে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে গুলি বর্ষণ ও নৌকা ছিনিয়ে নেওয়ার কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

জানতে চাইলে বৈঠক সম্পর্কে বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রেজাউল করিম বিস্তারিত বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

তবে বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (এডি) কারিমুল ইসলাম জানান, সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পরে জানানো হবে।

এদিকে বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের মিডিয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশি নাগরিকেরা সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে প্রায় ২০ গজ ভারতের ভেতরে প্রবেশ করলে বিএসএফের পানিশালা ক্যাম্পের সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং চারটি নৌকা জব্দ করে। বিষয়টি স্থানীয় ইউএনও ও পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।