সিলেটে ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনওর কার্যালয়ে তালা

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের একাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের ব্যানারে নেতাকর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা দেড়টা পর্যন্ত তারা ইউএনও অফিসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় তারা ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য লোকবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ‘প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ’ বাতিল করে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে গত শনিবার রাতে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে শুমারিকালীন তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পাওয়া বৈধ আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত, রিজার্ভ ও অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ৬৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ছয়জন সুপারভাইজারকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তথ্য সংগ্রহকারী পদে ছয়জনকে রিজার্ভ ও ৪১ জনকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। সুপারভাইজার পদে একজনকে রিজার্ভ এবং চারজনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন নেতা কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়েছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও এমদাদুল হক শরীফ বলেন, বিক্ষোভের সময় আমি কার্যালয়ে ছিলাম না, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় ছিলাম। শুনেছি, কয়েকজন ব্যক্তি ফ্যামিলি কার্ড শুমারির লোকবল নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
কোনো রাজনীতিবিদের দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়েছে কি না জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, এ তথ্য সঠিক নয়। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারও অপছন্দ হওয়া মানেই অনিয়ম নয়। অভিযোগকারীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানালে বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে।
এদিকে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য লোকবল নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সিলেটের জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলাতেও বিক্ষোভ হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকেও নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অযোগ্যদের বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
.png)


