logo
Advertisement

ফাহিমের বিয়ে শেষে ফেরার পথে লাশ হলেন ভাইবোন ও মামা

আবু রায়হান তানিন
চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম
ফাহিমের বিয়ে শেষে ফেরার পথে লাশ হলেন ভাইবোন ও মামা
মনজুর আলম, তার স্ত্রী নিলুফা, ছেলে মোর্শেদের সঙ্গে ফাহিম ও তার স্বামী। ছবিটি বিয়ের আসরের। ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

যে পরিবার কিছুক্ষণ আগে মেতে ছিল বিয়ের আনন্দে। চারদিকে ছিল হাসি-আনন্দ ও উৎসবের কোলাহল; রাত পোহাতে সেই পরিবারে স্বজনদের আহাজারি। বিয়ের আনন্দঘন মুহূর্ত শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন চারজন। তাদের মধ্যে তিনজন এক পরিবারের স্বজন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকার প্রবাসী মনজুর আলমের মেঝ মেয়ে ফাহিমের বিয়ে শেষে কক্সবাজার ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মনজুর আলমের চার ছেলেমেয়ের মধ্যে ছোট দুই ছেলে-মেয়েসহ তিনি ওই গাড়িতে ছিলেন। দুর্ঘটনায় তার দুই ছেলে মেয়ে নিহত হয়েছেন। তিনিও গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন, নববধূ ফাহিমের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিজম আক্রান্ত) ভাই মোর্শেদ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বোন মিমতা, বড় মামা ফেরদৌস আলম এবং মাইক্রোবাস চালক মুন্না। তাদের সবার বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফাহিমদের পরিবার চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে বসবাস করে। শুক্রবার রাতে আগ্রাবাদের একটি রেস্তোরাঁয় অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে ফাহিমের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ে উপলক্ষে কক্সবাজার থেকে তিনটি মাইক্রোবাসে করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন আত্মীয়স্বজন চট্টগ্রামের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রথম দুটি গাড়ি নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেও, সবার শেষে রওনা হন ফাহিমের পরিবারের নিকটজনরা। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রা ঘরে পৌঁছায়নি।

শনিবার রাত ২টার দিকে মইজ্জারটেক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে দুমড়েমুচড়ে যায় গাড়িটি।

ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কনের বাবা মনজুর আলমকে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় কনের মা নিলুফা আক্তারও আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন এবং আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা।

ফাহিমের মামাতো ভাই ইমন এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা সুন্দরভাবে শেষ হয়েছিল। ভাবতেও পারিনি আনন্দ এভাবে বিষাদে রূপ নেবে। এক নিমেষে সব শেষ হয়ে গেল। আমি বিয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। দুইদিন পর প্রবাসে কর্মস্থলে ফিরে যেতে হবে বলে যাইনি।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমদ জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত দুটি গাড়ি জব্দ করে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।