সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ: খাদ্যমন্ত্রী

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ বলে যেন কোনো শব্দ না থাকে—সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, কোনো সরকারই সিন্ডিকেট পছন্দ করে না। বাজারে সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আফরোজা খানম বলেন, সিন্ডিকেট কোনো সরকারই পছন্দ করে না। আমরাও চাই, সিন্ডিকেট বলে যেন কোনো শব্দই না থাকে। কারণ সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দেশের খাদ্য মজুত ও বাজার পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য সরবরাহ, মজুত ও বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কাছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। দেশের খাদ্য সংরক্ষণাগার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম আরও উন্নত করার বিষয়েও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পুষ্টিকর চাল উৎপাদন প্রকল্প চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি কবে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়নি। মঙ্গলবার এটি পরিদর্শন করা হয়েছে; সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চালুর চেষ্টা করা হবে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার পোস্তগোলায় সরকারি আধুনিক ময়দা মিল পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে খাদ্যমন্ত্রীর দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জ সাইলোতে পৌঁছান। সেখানে সাইলো এবং এর ভেতরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল মিল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, মজুত সক্ষমতা, মিলের কার্যক্রম ও সার্বিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা ও কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন খাদ্য সংরক্ষণাগার ও স্থাপনার বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। খাদ্যশস্য সংরক্ষণব্যবস্থা, স্থাপনাগুলোর সক্ষমতা ও কর্মী কর্ম পরিবেশ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানসহ খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
