টাঙ্গাইলে লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে অতিষ্ঠ জনজীবন

টাঙ্গাইলে গরমের শুরুতেই বৈদ্যুতিক লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকট জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। একদিকে বিদ্যুৎ সংকট, অন্যদিকে তেলের অপ্রতুলতা-দুইয়ের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বোরো ধানের সেচ প্রকল্পের কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তা, মুদি দোকানদার, বিপণিবিতানের ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও চাকরিজীবী মানুষ এবং যানবাহনের চালকরা।
লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে তেল নিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। একই সঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বোরো ধানের সেচ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় কৃষকরা ফসল উৎপাদন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
মোটরসাইকেল আরোহী জাহাঙ্গীর বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প থেকে তেল নিতে পারছেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মিনি পিকআপচালক কবির হোসেনের ভাষ্য, একদিকে বিদ্যুৎ সংকট, অন্যদিকে তেলের অভাব-এভাবে চলতে পারে না। আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আরেক মোটরসাইকেলচালক সোহেল জানান, ভোর ছয়টায় তেলের জন্য পাম্পে এসেও বিদ্যুৎ না থাকায় তেল নিতে পারেননি।
রিকশাচালক আকবর বলেন, কারেন্ট না থাকায় অটোরিকশার ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ দিতে পারছি না। ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দামের ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। আমরা খুব কষ্টে আছি।
এদিকে লোডশেডিংয়ের প্রভাবে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। মুদি দোকানদার হালিম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সেচ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক কৃষক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি।
টাঙ্গাইল জেলা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৩৫ থেকে ১৪০ মেগাওয়াট হলেও পিক আওয়ারে গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১১৫ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি মেটাতে ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, এ কারণে জেলাকে সাতটি ডিভিশনে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।