হাতির পিঠে বর, ঘোড়ার গাড়িতে কনে

হাতিকে পরানো হয়েছে ফুলের মালা। পিঠে জড়ানো লাল টুকটুকে কাপড়। সাদা রঙ দিয়ে সাজানো হয়েছে শুঁড়। দেখে মন হতে পারে–কোনো রাজ পরিবারের উৎসব। আদতে এটি বাংলাদেশেরই কোনো এক গ্রামীণ পরিবেশের চিত্র। যেটি মূলত বিয়ের আয়োজন ঘিরে।
হাতিকে বরের বাহন বানিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিয়ে করতে যান জয়পুরহাটের সদর উপজেলার চাকমোহন গ্রামের যুবক ফারহান ফয়সাল। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে হাতির পিঠে চড়িয়ে আনা হয়নি। তাকে বরের বাড়িতে আনার জন্য ছিল ঘোড়ার গাড়ি।
প্রায় ১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে যান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে কর্মরত ফারহান ফয়সাল। এমন এক ব্যতিক্রমী বিয়ে ঘিরে তৈরি হয় কৌতূহল। আয়োজন দেখেতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, এই এলাকায় আগে কখনও হাতির পিঠে বরযাত্রা কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে কনের বিদায়ের ঘটনা দেখেননি তারা। তাই এটি তাদের কাছে ব্যতিক্রম ও আনন্দের বিষয় হয়ে উঠেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কনের বাবা দুলাল হোসেনের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল, ছোট মেয়ের বিয়েতে ভিন্নধর্মী আয়োজন করবেন। সে ভাবনা থেকেই মেয়ে জামাইকে হাতির পিঠে চড়িয়ে আনা এবং মেয়েকে ঘোড়ার গাড়িতে বিদায় দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।
কনে ফারহানা আক্তার বলেন, বাবার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।
বর ফারহান ফয়সাল বলেন, ছোটবেলা থেকে হাতির পিঠে চড়ে বিয়েতে যাওয়ার গল্প শুনতাম। নিজে এভাবে বিয়ে করতে পেরে ভালো লাগছে।

বরের বাবা ফজলুর রহমান জানান, ছেলের শ্বশুরের ইচ্ছা পূরণ করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করতে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।
কনের বাবা দুলাল হোসেন বলেন, ছোট মেয়ের বিয়েতে ব্যতিক্রম কিছু করতে চেয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে সেটি করতে পেরেছি। সবাই ওদের জন্য দোয়া করবেন।


