জুতা নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় পেছন দিক থেকে জুতা নিক্ষেপ করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মইনপুর গ্রামে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম গোলাম কিবরিয়া ওরফে তারা মিয়া (৫৫)। তিনি মইনপুর গ্রামে বাসিন্দা।
পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে তারা মিয়ার ছোট ভাই রুমান মিয়া বাইসাইকেলে করে গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষ আজিজুলের ছেলে সালিহ আহমদ হঠাৎ পেছন থেকে তাকে লক্ষ করে একটি জুতা নিক্ষেপ করেন। এর জেরে প্রথমে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে তারা মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে বেদম মারপিট করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত তারা মিয়ার পরিবারের অভিযোগ, পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের পাঁচ থেকে সাতজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও মারধরে তারা মিয়া গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তারা মিয়া ছাড়াও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
তারা মিয়ার ভাই রুমান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। সেই আক্রোশ থেকেই পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর জুতা নিক্ষেপ করা হয় এবং পরে আমার ভাইসহ আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমরা আমার বড় ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সালিহ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আরিফ উল্লাহ বিকেলে বলেছেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে মারামারির ঘটনায় মইনপুর গ্রামে একজন নিহত হওয়ার খবরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।