কবিরাজির আড়ালে জাল টাকা তৈরির কারখানা

যশোরের মণিরামপুরে কবিরাজির আড়ালে জাল টাকা তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, কি-বোর্ড ও এক হাজার টাকা মূল্যমানের বেশ কয়েকটি জাল নোট জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মণিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান হাজরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক দুজন হলেন—মণিরামপুরের কুলটিয়া ইউনিয়ন ওলামা লীগের সভাপতি ও ডাঙ্গামহিষদিয়া গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে এমদাদুল হক এবং যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামের মৃত আলতাফ বিশ্বাসের ছেলে আজিবুর রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, আজিবুর রহমান মূল অভিযুক্ত এমদাদুল হকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। অপর আসামি কম্পিউটার দোকানের মালিক মফিজুর রহমানকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুলটিয়া ইউনিয়নের কালার মোড়ের একটি দুইতলা ভবনে দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন এমদাদুল হক ও আজিবুর রহমান। আজিবুর ডাঙ্গামহিষদিয়া বাজারে নওয়াব আলীর একটি দুইতলা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কবিরাজির আড়ালে তারা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা তৈরির সাথে জড়িত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড় ১২টার দিকে কালার মোড়ে মৃত আনোয়ার গাজীর ছেলে মফিজুর রহমানের কম্পিউটার দোকানে দরজা বন্ধ করে জাল টাকা ছাপানোর সময় আজিবুর রহমানকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা। এ সময় এমদাদুল হক ও দোকানের মালিক মফিজুর রহমান সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ডাঙ্গামহিষদিয়া এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা পালিয়ে যাওয়া এমদাদুল হককে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
মণিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান হাজরা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জাল টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার, একটি কি-বোর্ড এবং এক হাজার টাকা মূল্যের বেশ কয়েকটি জাল নোট আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
মণিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ জানান, জাল টাকা তৈরির সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে এমদাদুল হক, আজিবুর রহমান ও কম্পিউটার দোকানের মালিক মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামি মফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


