অবৈধ স্থাপনায় থমকে আছে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজট নিরসনে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিকল্প সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর দখলদারিত্ব ও অবৈধ স্থাপনার কারণে থমকে আছে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল এলজিইডি সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলে আশেকপুর বাইপাস থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর ওপর ২৬৪ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে ৮০০ মিটার রাস্তার অ্যাপ্রোচের কাজ ধরা হয়। তার মধ্যে ৭০০ মিটার এলজিইডির রাস্তা এবং বাকি ১০০ মিটার সেতু কর্তৃপক্ষের। নির্মাণের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসেম আলী জানান, অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারিত্বের কারণে রাস্তা সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। অবৈধ দোকানগুলো সরিয়ে দিলে চলাচলের সুবিধা হবে, পাশাপাশি এলাকায় উন্নয়ন হবে। টাঙ্গাইল শহরসহ জেলার পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সহজেই উত্তরাঞ্চলে যাতায়াত করতে পারবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তার জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় দীর্ঘদিন ধরে আমরা দুর্ভোগে আছি। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সড়কের কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত করার দাবি জানাই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে সরকার রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু কিছু অবৈধ স্থাপনার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে আছে। এতে এলাকার মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ বা বাধা ছাড়াই দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তার কাজ শুরু করা হোক।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিকল্প সড়ক ও সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে টাঙ্গাইল শহরসহ জেলার পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সহজেই উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যানজটও অনেকটা নিরসন হবে।
যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জোকারচর থেকে আরিচা পর্যন্ত সংযোগ সড়ক হবে, এ বিষয়ে আমাদের কোনো কিছু জানানো হয়নি কিংবা জমি হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো লিখিত পাওয়া যায়নি। লিখিত পেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, যমুনা সেতুর জোকারচরে ২৬৪ মিটার ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। ব্রিজের এক পাশে ৮০০ মিটার অ্যাপ্রোচের কাজ ধরা হয়েছে, তার মধ্যে ১০০ মিটার সেতু কর্তৃপক্ষের। কিছু জায়গায় অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো উচ্ছেদ করার জন্য সেতু কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।

