কুষ্টিয়ায় থানার হাজতে লুঙ্গি ছিঁড়ে ফাঁস নেওয়ার চেষ্টা

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা হাজতখানায় নিজের পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মুরগি চুরির মামলার এক আসামি। তবে হাজতে থাকা অপর এক আসামির চিৎকারে বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) কুমারখালী থানা হাজতখানায় এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যার চেষ্টা করা ওই আসামির নাম ইকবাল শেখ গারো। তিনি কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকার ইসলাম শেখের ছেলে। সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে উপজেলার জিলাপীতলা এলাকায় ছয়টি মুরগি চুরি করে পালানোর সময় ইকবালকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে কুমারখালী থানার হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইকবাল নিজের পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে হাজতখানার দেওয়ালে থাকা লোহার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধেন। এরপর সেটি গলায় পেঁচিয়ে ঝুলে পড়ার চেষ্টা করেন। প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর কিছুক্ষণ পর আবারও একইভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় হাজতখানায় থাকা অপর এক আসামির ঘুম ভেঙে যায়। তিনি চিৎকার করে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি ইকবালকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। চিৎকার শুনে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হাজতখানায় ছুটে গিয়ে ইকবালকে উদ্ধার করেন।
এদিকে ইকবালের আটকের খবর পেয়ে থানায় আসেন সদকী ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন। তার দাবি, গত ৬ জুন রাতে তার খামার থেকে একটি গরু চুরি হয়। চুরি হওয়া গরুটির আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
পুলিশ হেফাজতে ইকবাল শেখ গারো বলেন, পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে এসেছে। সেজন্য আত্মহত্যা করে মরে যেতে চেয়েছিলাম।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, হাজতখানায় থাকা ইকবাল লুঙ্গি ছিঁড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। পরে পুলিশের তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ইকবালের বিরুদ্ধে সম্প্রতি গরু চুরির ঘটনাসহ থানায় কয়েকটি চুরির মামলা রয়েছে। হাজতে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে।



