চুয়াডাঙ্গায় কৃষিজমিতে পাওয়া সাতটি স্থলমাইন এক মাস পর নিষ্ক্রিয়

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামে কৃষিজমিতে পাওয়া সাতটি শক্তিশালী স্থলমাইন এক মাস পর নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এতে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে যশোর সেনানিবাসের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের প্রধান ক্যাপ্টেন রিফাতের নেতৃত্বে মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কৃষক সাইফুল ইসলাম জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নালা খননের সময় মাইনগুলো দেখতে পান। পরে তিনি পুলিশকে খবর দিলে সেগুলো নিরাপত্তার জন্য পাহারায় রাখা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, এসব স্থলমাইন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ব্যবহার করেছিল। যুদ্ধ শেষে তারা সেগুলো মাটির নিচে পুঁতে রেখে যায়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের এক মাস পর আজ সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসে মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় মাখালডাঙ্গা, গাড়াবাড়িয়া ও দিননাথপুর এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের তৎপরতা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সময়ই মাইনগুলো পুঁতে রাখা হয়।
আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী বড় সেতু, কালভার্ট, ট্রাক ও ট্যাংক ধ্বংসে এসব স্থলমাইন ব্যবহার করত। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মাইনগুলোর গায়ে লেখা এখনও স্পষ্ট রয়েছে।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য এসআই জালাল জানান, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল আসা পর্যন্ত মাইনগুলো কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছিল।
তবে মাইনগুলোর উৎপত্তি দেশ বা ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি নিষ্ক্রিয়কারী দল।