পিরোজপুরে চিকিৎসকদের প্রতি সিভিল সার্জনের কঠোর বার্তা

সরকারি চিকিৎসাসেবা নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর রাখার লক্ষ্যে পিরোজপুর জেলায় কর্মঘণ্টা চলাকালীন সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। একই সঙ্গে নিয়ম অমান্যকারী চিকিৎসক এবং তাদের দিয়ে প্র্যাকটিস করানো ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি কর্মঘণ্টা সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কোনো সরকারি চিকিৎসক ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট প্র্যাকটিসে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্মঘণ্টার মধ্যে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সরকারি বিধ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই সঙ্গে জেলার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মঘণ্টায় কোনো সরকারি চিকিৎসককে দিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস পরিচালনা করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশাল বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য), পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া পিরোজপুর জেলা বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে বিষয়টি জেলার সব সদস্য প্রতিষ্ঠানে দ্রুত অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, সরকারি কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস না করার নির্দেশনা আগেও ছিল। কিন্তু অনেকে তা অনুসরণ করছেন না। তাই নতুন করে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
