logo
Advertisement

‘সুরমা নদীর তীর কারও বাপ-দাদার জায়গা নাকি’

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
সুনামগঞ্জ, সিলেট
‘সুরমা নদীর তীর কারও বাপ-দাদার জায়গা নাকি’
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা নদীর চাঁদনী ঘাটে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের কারও বাপ-দাদার জায়গা নাকি? এটা কি আপনার বাপ-দাদা কিনে নিয়ে এসেছে? এটা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সুতরাং যেখানে আপনি ময়লা ফেলবেন, নিজেকেই তা তুলতে হবে।’

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে শহরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, উন্নত দেশে যে ময়লা ফেলে, তাকেই তুলে সেই ময়লা পরিষ্কার করতে হয়। তাকেই পরিষ্কার করানো হয়। যেখানে-সেখানে থুতু ফেলা যাবে না, পানের পিক ফেলা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, এই অভিযান আমরা মানুষের ভালোর জন্য করছি। পানের থুতু ফেলার আগেও দুইবার ভাবতে হবে। কেউ ময়লা ফেললে আমরা যদি নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও দায়বোধের জায়গা থেকে বাধা না দিই, তাহলে এটা বন্ধ হবে না।

একটি জীবাণুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন সমাজ এবং সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম বাজার, সুরমা নদীর চাঁদনী ঘাট ও কামারখাল এলাকায় এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। এ সময় ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, নদীর পাড়ে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অপসারণ এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান, জেলা বিএনপি নেতা পিপি অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কাউট দলের নেতৃবৃন্দ এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও অভিযানে অংশ নেন।